রাজবাড়ীর পাংশায় রান্নাঘরের পাশে পাটকাঠির পালায় ভিমরুলের বাসা পোড়াতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে বাড়িসহ পুড়ে গেছে পাঁচটি দোকান। আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে পাংশা শহরের বাড়েক মোড় এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, বাড়েক মোড় এলাকার মোহন কাজীর বসতবাড়ির রান্নাঘরের পাশে রাখা পাটকাঠির পালায় ভিমরুলের বাসা ছিল। ওই বাসা পোড়ানোর জন্য পাটকাঠির পালায় আগুন দেওয়া হলে সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকানগুলোতে। অগ্নিকাণ্ডে পাংশা বণিক সমিতির সভাপতির দুটি দোকান, কাঠের ফার্নিচার ব্যবসায়ী ক্ষীরোদ পালের একটি দোকানসহ মোট পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। খবর পেয়ে পাংশা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও কালুখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিটসহ মোট তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আশপাশের আরও দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।
পাংশা বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার সরদার বলেন, হিন্দু ধর্মের উৎসব জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সবাই ব্যস্ত ছিলাম, প্রথমে খবর পাই এক বাড়িতে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস অফিসে ফোন দেই এরপর শুনি আমাদের সভাপতির দোকানে আগুন লেগেছে। পরে আমরা এসে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন মিলে আগুন নেভানোর কাজে লেগে যাই। আমাদের অনেক টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে।
কাঠের ফার্নিচার ব্যবসায়ী ক্ষীরোদ পাল জানান, বাজারের পাশের একটি বসতবাড়ি থেকে লাগা আগুনে তার দুটি দোকানসহ আরও তিনটি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দোকানের পেছনে মোহন কাজীর বসতবাড়ির রান্নাঘরের পাশে পাটকাঠির পালায় আগুন দিয়ে ভিমরুলের বাসা পোড়াতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মোহন কাজীর বাড়ীও পুড়ে গেছে, কিছু নেই তাদের ঘরে।
জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রান্নাঘরের পাশে পাটকাঠির পালায় আগুন দিয়ে ভিমরুলের বাসা পোড়ানোর সময় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পাংশা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও কালুখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিটসহ তিনটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আশপাশের আরও দোকানে আগুন ছড়িয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত। অগ্নিকাণ্ডে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাটি দুঃখজনক। যতটুকু সম্ভব, ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’