ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে এক সপ্তাহে গৃহহীন ৫০ পরিবার, ঝুঁকিতে শতাধিক

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি ও ঘুঘুমারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ভাঙনের ফলে প্রায় ৪০০ মিটার এলাকাজুড়ে বসতভিটা ও শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। তবে নতুন করে আরও শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম (৪৫) বলেন, নদীভাঙনে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। কোথায় যাব, কী করব বুঝতে পারছি না।

স্থানীয় বাসিন্দা কাশেম আলী (৫৫) বলেন, এক এক করে সব জমি-ঘর নদীতে চলে যাচ্ছে, আমরা এখন নিঃস্ব।

কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, শুষ্ক মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের পানির স্তর কমে গেলে ভাঙনের প্রবণতা বেড়ে যায়। নদীর চ্যানেল সরু হয়ে যাওয়া এবং পাড়ের মাটির গঠন দুর্বল থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি ভাঙনকবলিতদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

রৌমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইমান আলী বলেন, ইতোমধ্যে ৫০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে এবং আরও শতাধিক পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বিষয়টি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্যমতে, প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কুড়িগ্রামে অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়। এছাড়া, গত তিন বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে অন্য এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উলিপুরের সাহেবের আলগা থেকে চর রাজিবপুরের কোদালকাটি পর্যন্ত প্রায় ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদীশাসনের জন্য একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *