২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে মাঠে গড়াবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার টুর্নামেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। নতুন ফরম্যাটে বাড়ছে ম্যাচসংখ্যা, বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তার ওপর বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছে নতুন কয়েকটি দেশও।
গ্রুপভিত্তিকভাবে দেখে নেওয়া যাক দলগুলোর বিশ্বকাপ ইতিহাস, বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিং, কততম আসর খেলছে এবং কীভাবে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।
গ্রুপ ‘এ’
মেক্সিকো
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ১৫
* অঞ্চল: কনকাকাফ
* কততম বিশ্বকাপ: ১৮তম
* কীভাবে এসেছে: স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম নিয়মিত দল মেক্সিকো। এখন পর্যন্ত ১৭টি বিশ্বকাপে খেলেছে তারা। তাদের সেরা সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল (১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে—দুইবারই নিজেদের মাঠে আয়োজিত বিশ্বকাপে)। তবে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ব্যাপারটি হলো ‘শেষ ষোলোর অভিশাপ’। ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা সাতবার নকআউটের প্রথম ধাপেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। তবে ২০২২ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তারা, এমনটা ঘটেছে ১৯৭৮ সালের পর প্রথম।
দক্ষিণ আফ্রিকা
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৬০
* অঞ্চল: ক্যাফ-আফ্রিকা
* কততম বিশ্বকাপ: ৪র্থ
* কীভাবে এসেছে: আফ্রিকান বাছাইপর্ব
* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: দক্ষিণ আফ্রিকা এখন পর্যন্ত তিনটি বিশ্বকাপে খেলেছে—১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০। তবে প্রতিবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। ২০১০ সালে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ আয়োজন করেও গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি তারা। যদিও ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারানোর স্মৃতি এখনও উজ্জ্বল। তারা বিশ্বকাপে ফিরেছে ১৬ বছর পর।
দক্ষিণ কোরিয়া
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ২৫
* অঞ্চল: এশিয়া
* কততম বিশ্বকাপ: ১২তম
* কীভাবে এসেছে: এএফসি বাছাইপর্ব
* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: এশিয়ার সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ দলগুলোর একটি দক্ষিণ কোরিয়া। এখন পর্যন্ত ১১টি বিশ্বকাপে খেলেছে তারা এবং ১৯৮২ সালের পর আর কোনও আসর মিস করেনি।
২০০২ সালে জাপানের সঙ্গে যৌথ আয়োজক হয়ে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় তারা। ইতালি ও স্পেনকে হারিয়ে শেষ চারে ওঠা সেই দলটি এখনও এশিয়ান ফুটবলের মানদণ্ডের বিচারে সেরা। তার ওপর ২০১৮ সালে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিদায় করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনও ঘটিয়েছে।
চেকপ্রজাতন্ত্র
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৪১
* অঞ্চল: ইউরোপ
* কততম বিশ্বকাপ: ২বার
* কীভাবে এসেছে: উয়েফা বাছাইপর্ব
* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চেকপ্রজাতন্ত্র মাত্র দুটি বিশ্বকাপে খেলেছে। সর্বশেষ ২০০৬ সালে শক্তিশালী দল নিয়েও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় তারা। তবে চেকোস্লোভাকিয়ার ইতিহাস যোগ করলে দলটি দুইবার বিশ্বকাপ রানার্সআপ (১৯৩৪ ও ১৯৬২)।
গ্রুপ ‘বি’
কানাডা
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৩৯
* অঞ্চল: কনকাকাফ
* কততম বিশ্বকাপ: ৩য়
* কীভাবে এসেছে: স্বাগতিক
* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ২০২৬ সালের আগে মাত্র দুটি বিশ্বকাপে খেলেছে কানাডা। একবার ১৯৮৬ সালে, আরেকবার ২০২২ সালে। প্রথম আসরে গোলও করতে পারেনি তারা। তবে ২০২২ সালে ৩৬ বছর পর ফিরে নতুন এক কানাডাকে দেখেছে বিশ্ব।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৬৫
* অঞ্চল: ইউরোপ
* কততম বিশ্বকাপ: ২য়
* কীভাবে এসেছে: উয়েফা অঞ্চল
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এখন পর্যন্ত মাত্র একবার বিশ্বকাপে খেলেছে। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপেই ছিল তাদের অভিষেক।
কাতার
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৫৫
* অঞ্চল: এশিয়া
* কততম বিশ্বকাপ: ২য়
* কীভাবে এসেছে: এশিয়ান বাছাই
* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ২০২২ সালে স্বাগতিক হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিল কাতার। তবে তিন ম্যাচেই হেরে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম স্বাগতিক দল হিসেবে সব ম্যাচে পরাজিত হওয়ার রেকর্ড গড়ে তারা।
তবে এশিয়ান পর্যায়ে কাতার এখন শক্তিশালী দল। টানা দুইবার এশিয়ান কাপ জিতেছে তারা।
সুইজারল্যান্ড
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ১৯
* অঞ্চল: ইউরোপ
* কততম বিশ্বকাপ: ১৩তম
* কীভাবে এসেছে: ইউরোপিয়ান বাছাইপর্ব
* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ইউরোপের সবচেয়ে ধারাবাহিক দলগুলোর একটি সুইজারল্যান্ড। ১২টি বিশ্বকাপে খেলেছে তারা। ১৯৩৪, ১৯৩৮ ও ১৯৫৪ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই তাদের সেরা সাফল্য।
গ্রুপ ‘সি’
ব্রাজিল
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৬
* অঞ্চল: কনমেবল
* কততম বিশ্বকাপ: ২৩তম
* কীভাবে এসেছে: দক্ষিণ আমেরিকা বাছাইপর্ব
* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। একমাত্র দল হিসেবে সবগুলো বিশ্বকাপে খেলেছে তারা। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সর্বশেষ শিরোপা এসেছে সেই ২০০২ সালে।
মরক্কো
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৮
* অঞ্চল: ক্যাফ-আফ্রিকা
* কততম বিশ্বকাপ: ৭ম
* সেরা সাফল্য: সেমিফাইনাল (২০২২)
* কীভাবে এসেছে: আফ্রিকান বাছাই থেকে
* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ২০২২ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান ও আরব দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছিল মরক্কো। বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালকে হারিয়ে তাদের সেই যাত্রা বদলে দেয় সবার ধারণা। ১৯৮৬ সালে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপ গ্রুপের শীর্ষে ওঠার ইতিহাসও রয়েছে তাদের।
হাইতি
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৮৩
* অঞ্চল: কনকাকাফ
* কততম বিশ্বকাপ: ২য়
* কীভাবে এসেছে: কনকাকাফ বাছাই
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
হাইতি এখন পর্যন্ত মাত্র একবারই বিশ্বকাপে খেলেছে। ১৯৭৪ সালের পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপ ছিল তাদের একমাত্র উপস্থিতি। ৫২ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরছে তারা।
স্কটল্যান্ড
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৪৩
* অঞ্চল: ইউরোপ
* কততম বিশ্বকাপ: ৯ম
* কীভাবে এসেছে: উয়েফা অঞ্চল
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: বিশ্বকাপে আটবার খেলেও কখনও গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি স্কটল্যান্ড। ১৯৯৮ সালের পর দীর্ঘ ২৮ বছর বিশ্বকাপের বাইরে ছিল তারা।
গ্রুপ ‘ডি’
যুক্তরাষ্ট্র
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ১৬
* অঞ্চল: কনকাকাফ
* কততম বিশ্বকাপ: ১২তম
* কীভাবে এসেছে: স্বাগতিক
* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ১১টি ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জনই তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য।
আধুনিক যুগে তাদের সবচেয়ে স্মরণীয় পারফরম্যান্স আসে ২০০২ বিশ্বকাপে। সেখানে পর্তুগাল ও মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায় তারা।
১৯৯৪ সালেও তারা স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল এবং তখন শেষ ষোলো পর্যন্ত গিয়েছিল।
প্যারাগুয়ে
ফিফা র্যাঙ্কিং: ৪০
অঞ্চল: দক্ষিণ আমেরিকা
কততম বিশ্বকাপ: ৮ম
কীভাবে এসেছে: : কনমেবল বাছাইপর্ব
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
প্যারাগুয়ে এখন পর্যন্ত আটটি বিশ্বকাপে খেলেছে। তাদের সেরা সাফল্য ২০১০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল।
দক্ষিণ আফ্রিকার সেই বিশ্বকাপে ইতালিকে পিছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় দলটি।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২—টানা তিন বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়াটা প্যারাগুয়ের জন্য ছিল বড় ধাক্কার।
অস্ট্রেলিয়া:
ফিফা র্যাঙ্কিং: ২০
অঞ্চল: এশিয়া
কততম বিশ্বকাপ: ৬ষ্ঠ
কীভাবে এসেছে: এশিয়ান বাছাই থেকে
সংক্ষিপ্ত পরিচিত: ২০০৬ সালে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনে যোগ দেওয়ার পর থেকে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে নিয়মিত মুখ। এখন পর্যন্ত ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছে তারা।
২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় উঠে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেখায় অস্ট্রেলিয়া। একই পুনরাবৃত্তি করেছে ২০২২ সালেও।
তুরস্ক
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ২২
* অঞ্চল: ইউরোপ
* কততম বিশ্বকাপ: ৩য়
* কীভাবে এসেছে: উয়েফা বাছাই
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: বিশ্বকাপে মাত্র দুইবার খেলেছে তুরস্ক। তবে ২০০২ বিশ্বকাপেই ইতিহাস গড়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে তারা।
হাকান শুকুর সেই বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠা তুরস্ক ছিল সেই আসরের অন্যতম বিস্ময়।
২০০২ সালের পর টানা ছয় বিশ্বকাপে জায়গা না পেলেও ইউরো ২০২৪-এ কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মাধ্যমে আবারও পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি।
গ্রুপ ই
জার্মানি
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ১০
* কততম বিশ্বকাপ: ২১তম
* অঞ্চল: উয়েফা
* কীভাবে এসেছে: ইউরোপীয় বাছাইপর্ব
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সফল দল। ২০১৪ সালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জিতেছিল। তবে সাম্প্রতিক দুই বিশ্বকাপ জার্মানদের জন্য ছিল হতাশার। ২০১৮ সালে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তারা। ২০২২ সালেও একই পরিণতি হয়।
কুরাসাও
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৮২
* কততম বিশ্বকাপ: ১ম (অভিষেক)
* অঞ্চল: কনকাকাফ
* কীভাবে এসেছে: কনকাকাফ বাছাই
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে যাচ্ছে কুরাসাও। মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার দেশটি বিশ্বকাপে ওঠা সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে ইতিহাস গড়েছে।
নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে অনেক ফুটবলার ডাচ একাডেমিতে বেড়ে উঠেছে। ছোট দেশ হলেও কৌশলগত ফুটবলে বেশ উন্নতি করেছে কুরাসাও।
আইভরি কোস্ট
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৩৪
* কততম বিশ্বকাপ: ৪র্থ
* অঞ্চল: ক্যাফ-আফ্রিকা
* কীভাবে এসেছে: আফ্রিকার বাছাইপর্ব থেকে
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: আইভরি কোস্ট তিনটি বিশ্বকাপে খেলেছে। দ্রগবা, ইয়ায়া তুরেদের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ থাকলেও কখনও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি তারা। তবে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস তিনবার জেতা আইভরি কোস্ট এখনও আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল।
ইকুয়েডর
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৩১ (আনুমানিক)
* কততম বিশ্বকাপ: ৬ষ্ঠ
* অঞ্চল: কনমেবল-দক্ষিণ আমেরিকা
* কীভাবে এসেছে: দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের বাছাই থেকে
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ইকুয়েডর ৫টি বিশ্বকাপে খেলেছে। ২০০৬ সালে শেষ ষোলোয় ওঠাই তাদের সেরা সাফল্য।
কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক কাতারকে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছিল তারা। কুইটোর উচ্চতাজনিত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাছাইপর্বে বরাবরই শক্তিশালী ইকুয়েডর।
গ্রুপ এফ
নেদারল্যান্ডস
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৭
* কততম বিশ্বকাপ: ১২তম
* অঞ্চল: উয়েফা
* কীভাবে এসেছে: ইউরোপীয় বাছাইপর্ব থেকে
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: বিশ্বকাপ না জেতা সবচেয়ে সফল দল নেদারল্যান্ডস। তিনবার ফাইনাল খেলেও শিরোপা জিততে পারেনি তারা।
১৯৭৪ সালে ইয়োহান ক্রুইফের ‘টোটাল ফুটবল’ বিশ্ব ফুটবলে বিপ্লব ঘটায়। ২০১০ সালে ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েও শিরোপা হাতছাড়া হয় তাদের।
২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে টাইব্রেকারে হারতে হয় ডাচদের।
জাপান
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ১৮
* কততম বিশ্বকাপ: ৮ম
* অঞ্চল: এএফসি
* কীভাবে এসেছে: এশিয়ান বাছাই
* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ১৯৯৮ সালের পর থেকে টানা সব বিশ্বকাপে খেলছে জাপান। চারবার শেষ ষোলোয় উঠেছে তারা।
২০২২ সালে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া জাপান ছিল বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক।
সুইডেন
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৩৮
* কততম বিশ্বকাপ: ১৩তম
* অঞ্চল: উয়েফা
* কীভাবে এসেছে: ইউরোপীয় বাছাই
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: সুইডেন ১২টি বিশ্বকাপে খেলেছে। ১৯৫৮ সালে নিজেদের মাঠে রানার্সআপ হয়েছিল তারা।
২০১৮ সালে জার্মানি ও মেক্সিকো থাকা গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে সুইডেন।
তিউনিসিয়া
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৪৪
* কততম বিশ্বকাপ: ৬ষ্ঠ
* অঞ্চল: ক্যাফ-আফ্রিকা
* কীভাবে এসেছে: আফ্রিকার বাছাইপর্ব থেকে
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: তিউনিসিয়া ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছে। তবে কখনও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি।
১৯৭৮ সালে মেক্সিকোকে হারিয়ে আফ্রিকার হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে জয় এনে দেয় তারা।
গ্রুপ জি
বেলজিয়াম
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৯
* কততম বিশ্বকাপ: ১৪তম
* অঞ্চল: উয়েফা
* কীভাবে এসেছে: ইউরোপীয় বাছাইপর্ব
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়াই বেলজিয়ামের সেরা সাফল্য। সেই আসরে ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল তাদের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’। তবে ২০২২ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া ছিল বড় ধাক্কার।
মিসর
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ২৯
* কততম বিশ্বকাপ: ৫ম
* অঞ্চল (কনফেডারেশন): ক্যাফ-আফ্রিকা
* কীভাবে এসেছে: আফ্রিকার বাছাইপর্ব
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: মিসর তিনটি বিশ্বকাপে খেলেছে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সবচেয়ে সফল দল হলেও বিশ্বকাপে সাফল্য খুব কম।
২০১৮ সালে মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরে বড় আশা ছিল। কিন্তু ইনজুরির কারণে সেরা ছন্দে না থাকায় তিন ম্যাচই হেরে বিদায় নেয় মিসর।
ইরান
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ২১
* অঞ্চল: এশিয়া
* কততম বিশ্বকাপ: ৭ম
* কীভাবে এসেছে: এএফসি অঞ্চল
* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
ইরান এখন পর্যন্ত ৬টি ফিফা বিশ্বকাপে খেলেছে। তবে কখনও তারা নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পারেনি।
১৯৯৮ বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে ঐতিহাসিক জয় আসে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। আমেরিকাকে ২-১ গোলে হারানো ম্যাচটি রাজনৈতিক ও ক্রীড়া ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০১৪ বিশ্বকাপে তারা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রায় পুরো ম্যাচ ধরে রক্ষণভাগে লড়াই করে। শেষ মুহূর্তে লিওনেল মেসির গোলে হেরে যায়। ২০১৮ বিশ্বকাপে মরক্কোকে হারিয়ে এবং পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করেও গোল ব্যবধানে শেষ ষোলো মিস করে ইরান।
২০২২ বিশ্বকাপে ওয়েলসকে ২-০ গোলে হারালেও ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয় তারা।
নিউজিল্যান্ড
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৮৯
* কততম বিশ্বকাপ: ৪র্থ
* অঞ্চল: ওএফসি
* কীভাবে এসেছে: ওশেনিয়া অঞ্চলের বাছাই
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: নিউজিল্যান্ড দুটি বিশ্বকাপে খেলেছে। ২০১০ সালে তিনটি ম্যাচ ড্র করে অপরাজিত থেকেও বিদায় নেয় তারা। ইতালির বিপক্ষে ১-১ ড্র এখনও নিউজিল্যান্ড ফুটবলের অন্যতম সেরা অর্জন।
গ্রুপ এইচ
স্পেন
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ২
* কততম বিশ্বকাপ: ১৭তম
* অঞ্চল: উয়েফা
* কীভাবে এসেছে: ইউরোপীয় বাছাই
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ২০১০ সালে প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। জাভি, ইনিয়েস্তা, কাসিয়াসদের সেই দলকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা জাতীয় দল ধরা হয়। তবে এরপর বিশ্বকাপে ধারাবাহিক হতাশ করেছে তারা। ২০১৮ সালে রাশিয়া ও ২০২২ সালে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে।
কেপ ভার্দে
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৬৯
* কততম বিশ্বকাপ: ১ম (অভিষেক)
* অঞ্চল (কনফেডারেশন): ক্যাফ-আফ্রিকা
* কীভাবে এসেছে: আফ্রিকার বাছাইপর্ব
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে যাচ্ছে কেপ ভার্দে। মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার দেশটির এই অর্জন আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম বড় রূপকথা।
সৌদি আরব
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৬১
* কততম বিশ্বকাপ: ৭ম
* অঞ্চল: এএফসি
* কীভাবে এসেছে: এশিয়ান বাছাই
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: সৌদি আরব ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছে। ১৯৯৪ সালে শেষ ষোলোয় ওঠাই তাদের সেরা সাফল্য। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল তারা।
উরুগুয়ে
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ১৭
* কততম বিশ্বকাপ: ১৫তম
* অঞ্চল: কনমেবল
* কীভাবে এসেছে: দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্ব
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দল।
১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জেতে তারা। ১৯৫০ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে ‘মারাকানাজো’ সৃষ্টি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি।
গ্রুপ আই
ফ্রান্স
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ১
*কততম বিশ্বকাপ: ১৭তম
* অঞ্চল (কনফেডারেশন): উয়েফা
* কীভাবে এসেছে: ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাই
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: ফ্রান্স এখন পর্যন্ত ১৬টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে এবং দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একবার ১৯৯৮ সালে, দ্বিতীয়বার ২০১৮ সালে।
১৯৯৮ সালে নিজেদের দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ফ্রান্স প্রথমবার শিরোপা জেতে। জিনেদিন জিদানের দুইটি হেড করা গোল ফাইনালে ব্রাজিলকে ৩-০ ব্যবধানে হারাতে বড় ভূমিকা রাখে।
২০১৮ বিশ্বকাপে তরুণ কিলিয়ান এমবাপ্পের উত্থান ঘটে। ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফ্রান্স দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। এমবাপ্পে সেই টুর্নামেন্টে ইতিহাসের অন্যতম তরুণ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
২০২২ বিশ্বকাপ ছিল আরও নাটকীয়। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-৩ ড্র শেষে টাইব্রেকারে হেরে যায় ফ্রান্স। এমবাপ্পে সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
সেনেগাল
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ১৪
* অঞ্চল: ক্যাফ-আফ্রিকা
* কততম বিশ্বকাপ: ৪র্থ
* কীভাবে এসেছে: আফ্রিকান বাছাই
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: সেনেগাল এখন পর্যন্ত ৩টি ফিফা বিশ্বকাপে খেলেছে। তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় শুরু হয় ২০০২ সালে।
২০০২ বিশ্বকাপে অভিষেকেই সেনেগাল বিশ্বকে চমকে দেয়। উদ্বোধনী ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় তারা। যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন। এরপর তারা কোয়ার্টার ফাইনালেও পৌঁছায়। সেখানে তুরস্কের কাছে হেরে বিদায় নেয়।
২০১৮ বিশ্বকাপে তারা দুর্ভাগ্যের শিকার হয়। জাপানের সঙ্গে সমান পয়েন্ট, গোল ব্যবধান ও মুখোমুখি ফলে সমান থাকার পর ‘ফেয়ার প্লে’ (হলুদ কার্ড সংখ্যা) নিয়মে গ্রুপ থেকে বাদ পড়ে। যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার ঘটে।
২০২২ বিশ্বকাপে সেনেগাল আবারও শক্তভাবে ফিরে আসে। কাতার ও ইকুয়েডরকে হারিয়ে নকআউট পর্বে পৌঁছে যায়। শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়।
ইরাক
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৫৭
* কততম বিশ্বকাপ: ২য়
* অঞ্চল: এএফসি
* কীভাবে এসেছে: এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্ব
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ইরাক এখন পর্যন্ত ২০২৬-এর আগে মাত্র একবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে।
১৯৮৬ সালে মেক্সিকোয় আয়োজিত বিশ্বকাপ ছিল ইরাকের একমাত্র বিশ্বকাপ। তারা তিনটি গ্রুপ ম্যাচেই হেরে যায়। তবে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করাই ছিল তাদের জন্য এক ঐতিহাসিক সাফল্য, এবং দলটি জাতীয় বীরের মর্যাদা পায়। অবশেষে ৪০ বছরের অনুপস্থিতির পর মূল পর্বে ফিরেছে তারা।
নরওয়ে
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৩১
* কততম বিশ্বকাপ: ৪র্থ
* অঞ্চল: উয়েফা
* কীভাবে এসেছে: ইউরোপীয় বাছাইপর্ব
সংক্ষিপ্ত স্কোর: নরওয়ে এখন পর্যন্ত ৩টি ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে।
প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছে ১৯৩৮ সালে। যেখানে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নেয় তারা। ১৯৯৮ সালের আসরটি ছিল নরওয়ের সবচেয়ে স্মরণীয় বিশ্বকাপ। তারা গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে। যা বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে বিবেচিত হয়।
এরপর দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে (২০০২–২০২২) নরওয়ে কোনো বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি।
গ্রুপ জে
আর্জেন্টিনা
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৩
* কততম বিশ্বকাপ: ১৯তম
* অঞ্চল (কনফেডারেশন): কনমেবল
* কীভাবে এসেছে: দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্ব
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত ১৮টি ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে এবং তিনবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে—১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২।
১৯৭৮ সালে নিজেদের দেশে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার আসর। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে “হ্যান্ড অব গড” এবং “গোল অব দ্য সেঞ্চুরি”—দুই ঐতিহাসিক মুহূর্তই সেই টুর্নামেন্টকে অমর করে রেখেছে।
১৯৯০ সালে তারা আবারও ফাইনালে পৌঁছায়, কিন্তু পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে রানার্সআপ হয়। ২০১৪ সালে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে তারা ফাইনালে উঠলেও অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির কাছে হেরে যায়।
২০২২ বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা ফুটবলের সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায়। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৩-৩ ড্র শেষে টাইব্রেকারে জয় পায় তারা। মেসির দুই গোল এবং এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক সেই ম্যাচকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাইনাল হিসেবে উজ্জ্বল করে রেখেছে।
আলজেরিয়া
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ২৮
* কততম বিশ্বকাপ: ৫ম
* অঞ্চল: ক্যাফ-আফ্রিকা
* কীভাবে এসেছে: আফ্রিকার বাছাইপর্ব
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: আলজেরিয়া এখন পর্যন্ত ৪টি ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। তাদের সবচেয়ে স্মরণীয় আসর ছিল ১৯৮২ সালে, যখন তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই পশ্চিম জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয়।
২০১৪ বিশ্বকাপে আলজেরিয়া নিজেদের ইতিহাসের সেরা পারফরম্যান্স করে শেষ ষোলোতে পৌঁছে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন জার্মানির কাছে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে যায়।
অস্ট্রিয়া
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ২৪
* কততম বিশ্বকাপ: ৮ম
* অঞ্চল: উয়েফা
* কীভাবে এসেছে: ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্ব
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ৭ বার। তাদের সেরা সাফল্য ১৯৫৪ সালে—যখন তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। সেই টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক সুইজারল্যান্ডকে ৭-৫ গোলে হারানো ম্যাচটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গোলের ম্যাচগুলোর একটি। ১৯৯৮ ছিল তাদের শেষ বিশ্বকাপ, এরপর দীর্ঘ ২৮ বছরের বিরতি শেষে তারা আবার বিশ্বমঞ্চে।
জর্ডান
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৬৩
* কততম বিশ্বকাপ: ১ম (অভিষেক)
* অঞ্চল: এএফসি
* কীভাবে এসেছে: এশিয়ান অঞ্চলের বাছাই
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে জর্ডান। দীর্ঘদিন ধরে এএফসি অঞ্চলের বাছাইপর্বে লড়াই করে আসলেও তারা বারবার অল্পের জন্য ব্যর্থ হয়েছে।
গ্রুপ কে
পর্তুগাল
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৫
* কততম বিশ্বকাপ: ৯ম
* অঞ্চল: উয়েফা
* কীভাবে এসেছে: ইউরোপীয় বাছাইপর্ব
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: পর্তুগাল এখন পর্যন্ত ৮টি ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন ১৯৬৬ সালে, যখন ইউসেবিওর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলটি তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
আধুনিক যুগে পর্তুগাল নিয়মিতভাবেই শক্তিশালী দল হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নেয়। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর যুগে তারা একাধিকবার নকআউট পর্বে পৌঁছেছে, তবে এখনো বিশ্বকাপ শিরোপা অধরা।
উজবেকিস্তান
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৫০
* কততম বিশ্বকাপ: ১ম (অভিষেক)
* অঞ্চল: এএফসি
* কীভাবে এসেছে: এশিয়ান বাছাইপর্ব
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: উজবেকিস্তান ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে।
সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে স্বাধীন হওয়ার পর দীর্ঘদিন তারা এশিয়ান বাছাইপর্বে নিয়মিত অংশ নিলেও মূল পর্বে পৌঁছাতে পারেনি।
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৪৬
* কততম বিশ্বকাপ: ২য় (পূর্বে জাইরে হিসেবে ১৯৭৪ সালে খেলেছিল)
* অঞ্চল: ক্যাফ-আফ্রিকা
* কীভাবে এসেছে: আফ্রিকান বাছাই
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: কঙ্গো (তৎকালীন জাইর নামে) মাত্র একবার বিশ্বকাপে খেলেছে—১৯৭৪ সালে। সেই টুর্নামেন্টে তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে তিন ম্যাচেই হেরে যায়। যার মধ্যে যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৯-০ ব্যবধানে একটি ঐতিহাসিক পরাজয়ও ছিল।
কলম্বিয়া
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ১৩
* কততম বিশ্বকাপ: ৭ম
* অঞ্চল: কনমেবল
* কীভাবে এসেছে: দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্ব
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: কলম্বিয়া এখন পর্যন্ত ৬টি ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। তাদের সেরা সাফল্য ২০১৪ সালে, যখন হামেস রদ্রিগেজের জাদুকরী পারফরম্যান্সে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায়। সেবার টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছিলেন তিনি।
গ্রুপ-এল
ইংল্যান্ড
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৪
* কততম বিশ্বকাপ: ১৭তম
* অঞ্চল: উয়েফা
* কীভাবে এসেছে: ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাই থেকে
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ১৬ বার এবং ১৯৬৬ সালে নিজেদের দেশে একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে। সেই ফাইনালে ওয়েম্বলিতে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে জিওফ হার্স্টের হ্যাটট্রিকে ইতিহাস গড়ে তারা।
আধুনিক যুগে ইংল্যান্ড নিয়মিতভাবে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত। ২০১৮ সালে তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে এবং ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেয়।
ক্রোয়েশিয়া
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ১১
* কততম বিশ্বকাপ: ৭ম
* অঞ্চল: উয়েফা
* কীভাবে এসেছে: ইউরোপীয় বাছাই
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ক্রোয়েশিয়া ১৯৯১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্বকাপে অংশ নিতে শুরু করে এবং খুব দ্রুতই বিশ্ব ফুটবলে শক্ত অবস্থান তৈরি করে।
২০১৮ বিশ্বকাপ ছিল তাদের স্বর্ণযুগ—লুকা মদ্রিচের নেতৃত্বে তারা ফাইনালে পৌঁছে এবং ফ্রান্সের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়। ২০২২ সালে তারা আবারও দুর্দান্ত নৈপুণ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
ঘানা
* ফিফা র্যাঙ্কিং: ৭৪
* অঞ্চল: ক্যাফ-আফ্রিকা
* কততম বিশ্বকাপ: ৫ম
* কীভাবে এসেছে: আফ্রিকার বাছাই থেকে
* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
ঘানা এখন পর্যন্ত ৪টি ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে এবং আফ্রিকার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০০৬ বিশ্বকাপে অভিষেকেই ঘানা দারুণ ছাপ ফেলে। চেক প্রজাতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে তারা শেষ ষোলোতে পৌঁছে যায়, তবে ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নেয়।
তাদের সবচেয়ে স্মরণীয় আসর ছিল ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্টে ঘানা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়।
এসএন/পিডিকে