আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ। তেলের বাজারে আকস্মিক অস্থিরতা, বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ও মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ কর্তৃক সুদের হার চড়া রাখার গুঞ্জনে টানা দুই দিনে ধাতুটির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। খবর রয়টার্সের।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩৭.২৯ ডলারে। এর আগের সেশনেই ধাতুটির দাম এক ধাক্কায় ২ শতাংশের বেশি পড়ে গিয়েছিল। এর মাত্র দুই দিন আগে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠেছিল স্বর্ণের বাজার, তা থেকে বর্তমানে দাম কমেছে আউন্সপ্রতি ১৩০ ডলারের বেশি।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হুথি হামলার জের ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তেলের এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিয়েছে।
মূল্যস্ফীতি সামলাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার বাড়িয়ে রাখতে পারে- এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ তার আকর্ষণ হারায়, যা এই বড় পতনের প্রধান কারণ।
গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান জানান, সংক্ষিপ্ত মেয়াদে বাজারে এমন অস্থিরতা বজায় থাকবে। তবে প্রতিবার দর ৪ হাজার ডলার বা তার নিচে নামলেই বড় ক্রেতারা আবার বাজারে ফিরে এসে পতন সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৮৩.৯১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৩৬.১৬ ডলারে নেমে এসেছে।