বিশ্বকাপের বাকি ১২ দিন

বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ‘অপরাজিত’ দুই মহাতারকা

গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে বাকি আর মাত্র ১২ দিন। বিশ্বমঞ্চের লড়াই শুরুর আগে ইতিহাসের পাতা ওল্টালে এমন কিছু ফুটবলারের নাম পাওয়া যায়, যারা বিশ্বকাপে একের পর এক ম্যাচ খেললেও কখনও হারের মুখ দেখেননি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি ম্যাচেও পরাজয়ের স্বাদ না পেয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার এক অনন্য রেকর্ড যৌথভাবে নিজেদের দখলে রেখেছেন ব্রাজিলের মারিও জাগালো এবং আর্জেন্টিনার হুলিও ওলার্তিকোসিয়া। 

বিশ্বমঞ্চে দুজনেই সমান ১২টি করে ম্যাচ খেলে অপরাজিত থাকার এই ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছেন।

মারিও জাগালো ব্রাজিলের হয়ে ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপ এবং ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপে দলের সবকটি ম্যাচ খেলেছিলেন। এই দুই আসরে তার খেলা ১২টি ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই জয় পায় ব্রাজিল এবং বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়।

অবশ্য জাগালোর মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার পেছনে ভাগ্যের একটু ছোঁয়াও ছিল। বাঁ-উইংয়ে সেলেসাওদের প্রথম পছন্দ পেপে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে চোটে কারণে পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। 

সেই সুযোগটি দুহাতে কাজে লাগান জাগালো। মাঠে তার অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে সবাই তাকে ‘দ্য লিটল অ্যান্ট’ বা ছোট পিঁপড়ে নামে ডাকত। এই দুই বিশ্বকাপে কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি দুইটি চমৎকার গোলও করেছিলেন তিনি, যার একটি ছিল ১৯৫৮ সালের ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার হুলিও ওলার্তিকোসিয়া ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকলেও সেবার মাঠে নামার সুযোগ পাননি। তবে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ৭টি এবং ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে ৫টি ম্যাচ মিলিয়ে মোট ১২টি ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে মাঠে নামেন তিনি। 

ওলার্তিকোসিয়া মাঠে থাকা অবস্থায় আর্জেন্টিনা ৮টি ম্যাচে জয় পায় এবং ৪টি ম্যাচ ড্র করে।

মজার বিষয় হলো, ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা যে দুটি ম্যাচে হেরেছিল, তার একটিতেও ওলার্তিকোসিয়া দলে ছিলেন না! ক্যামেরুনের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে হারের পর ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। আর এই দুটি ম্যাচেই ডাগআউটে বসে থাকতে হয়েছিল সালাদিলোর এই ফুটবলারকে। যার ফলে বিশ্বকাপে ১২ ম্যাচ খেলেও তার নামের পাশে কোনো হারের দাগ লাগেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *