যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, নিপীড়নের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে আসন্ন বিশ্বকাপ। ‘হিউম্যানিটি মাস্ট উইন’– শীর্ষক এক প্রতিবেদনে নিজেদের ওয়েবসাইটে এমনটিই জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।
সংস্থাটি ফিফা ও আয়োজক দেশগুলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টির মতে, ফিফা একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টুর্নামেন্টের প্রতিশ্রুতি দিলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষ করে বিশ্বকাপের তিন-চতুর্থাংশ ম্যাচের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ‘জরুরি মানবাধিকার পরিস্থিতির’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্য দুই আয়োজক দেশ মেক্সিকো ও কানাডার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকাণ্ডকে ‘প্যারামিলিটারি স্টাইল’ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে অ্যামনেস্টি। এছাড়া, মেক্সিকোতে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা দমনে সেনাবাহিনীসহ প্রায় এক লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন সাধারণ মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অ্যামনেস্টির অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগের প্রধান স্টিভ ককবার্ন বলেন— ‘ফিফা যখন রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করছে, তখন ভক্ত, সাংবাদিক বা কর্মীদের সেই চড়া মূল্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। ফুটবল কোনো সরকার বা স্পন্সরদের নয়, এটি সাধারণ মানুষের এবং তাদের অধিকার রক্ষা করাই টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।’
আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপ। ১০৪ ম্যাচের ম্যারাথনের পর্দা নামবে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে ফাইনাল দিয়ে। এবারই প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৪৮টি দল নিয়ে।
তিনটি দেশের ১৬টি ভেন্যুতে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে ৭৮টি ম্যাচ হবে যুক্তরাষ্ট্রে। বাকিগুলো মেক্সিকো ও কানাডায়।