২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোর নজরের কেন্দ্রে ছিলেন মরক্কোর ১৮ বছর বয়সী উদীয়মান মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি। এরপর বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমে নিজের জাত চিনিয়েছেন তরুণ এই তারকা। বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে নাম লেখাচ্ছেন তিনি। সেই গুঞ্জন সত্যি হলো এবার। তরুণ এই মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়ালো সিটি।
১১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (১০০ মিলিয়ন পাউন্ড) বিশাল মূল্যে বুয়াদ্দিকে নিজেদের দলে ভিড়িয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। যার মধ্যে ট্রান্সফার ফি বাবদ ৯৫ মিলিয়ন পাউন্ড এবং সম্ভাব্য বোনাস হিসেবে আরও ৫ মিলিয়ন পাউন্ড নির্ধারিত রয়েছে। ৫ বছরের চুক্তিতে তাকে দলে ভিড়িয়েছে সিটি। বিশাল এই টান্সফার মূল্যে নতুন একটি রেকর্ডও হয়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে বুয়াদ্দিই এখন সবচেয়ে দামি টিনেজার ফুটবলার।
এর আগে ২০২৪ সালে লিলে থেকেই ৭০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে লেনি ইয়োরোকে দলে টেনেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। বুয়াদ্দিকে দলে ভেড়ানোর আগপর্যন্ত তিনিই ছিলেন প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে দামি টিনেজার। চলতি নতুন মৌসুমে সিটির মিডফিল্ডে এটি দ্বিতীয় বড় সাইনিং। এর আগে নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে দলটিতে যোগ দিয়েছেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন।
ম্যানচেস্টার সিটিতে নাম লেখানোর পর নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বুয়াদ্দি বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে ম্যানচেস্টার সিটি বিশ্ব ফুটবলের সেরা ক্লাব। এখানে আসার সুযোগ পাওয়া এবং নিজেকে সিটির একজন ফুটবলার হিসেবে পরিচয় দিতে পারাটা আমার কাছে পুরোপুরি স্বপ্নের মতো।’
তিনি বলেন, ‘নিজের সর্বস্ব দিয়ে সেরা খেলোয়াড় হয়ে ওঠা এবং ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর জন্য আমি দীর্ঘ সময় ধরে ভীষণ পরিশ্রম করেছি। অনেক বছর ধরে সিটির ম্যাচগুলো আমি দেখছি এবং তাদের খেলার স্টাইল আমার দারুণ পছন্দ। এই ক্লাবটি সবসময়ই সুন্দর ও মানসম্মত ফুটবল খেলার পাশাপাশি জয়ের মানসিকতা ধরে রেখেছে।’
এদিকে দলবদলের বাজার বন্ধ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে স্কোয়াড গুছিয়ে নিতে আরও দুই ফুটবলারকে ছেড়ে দিয়েছে সিটি। কোচ এনজো মারেস্কার স্কোয়াড থেকে মিসরীয় ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ ধারে (লোন) যোগ দিয়েছেন টটেনহ্যাম হটস্পারে। তবে পরবর্তীতে ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রাথমিক মূল্যে তাকে স্থায়ীভাবে কিনে নেওয়ার অপশনও রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, স্প্যানিশ মিডফিল্ডার নিকো গঞ্জালেস ৫২ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে সিটি ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডে।
পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পর এনজো মারেস্কার অধীনে ম্যানসিটির মাঝমাঠে বেশ বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এর আগে রদ্রিগো হার্নান্দেজ (বার্সেলোনা), বার্নার্দো সিলভা (রিয়াল মাদ্রিদ) এবং তিজানি রেইন্ডার্সের (আল-কাদসিয়া) মতো তারকারা ক্লাব ছেড়েছেন।