বিরোধীদলের নোটিশ নিয়ে সংসদে উত্তেজনা, আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মুলতবি অধিবেশন

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদের অধিবেশন মুলতবি করে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ আদেশ নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদে নোটিশ উত্থাপন করেন। নোটিশ উত্থাপনের পর সংসদে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসময় অনির্ধারিত বিতর্ক হয় সরকারি দল এবং বিরোধীদলের মধ্যে।  

রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বিরোধীদলীয় নেতা এ নোটিশ উত্থাপন করেন।  

নোটিশ উত্থাপনের সময় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে, নির্বাচনে জয়ীদের একই দিন দুটি শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

তিনি আরও বলেন, এর আগে ১৫ মার্চ তিনি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে একটি অতি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছিলেন। সেসময় স্পিকার পরামর্শ দিয়েছিলেন নোটিশ আনার জন্য। সেই পরামর্শ অনুযায়ী তিনি এই নোটিশ সংসদে উত্থাপন করলেন। নোটিশটি গ্রহণ করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়ে আলোচনার দাবি জানান তিনি। 

তারপর আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে জাতি এক ধরনের বিভ্রান্তিতে আছে। এছাড়া তিনি জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে আলোচনার জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। 

সেসময় ফ্লোর নিয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, বিধি-৭১ ও প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে এ নোটিশ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

তারপর ফ্লোর নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দলের এমন নোটিশ ও মুলতবি প্রস্তাব ত্রুটিপূর্ণ। বিরোধী দলের এ নোটিশ সংশোধন ছাড়া আলোচনা হতে পারে না। 

তিনি আরও বলেন, বিধি মোতাবেক আলোচনার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সরকারি দল। সংসদের রীতি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধির পর মুলতবি প্রস্তাব আলোচনা হতে পারে। তখন সরকারি দলও পয়েন্ট অব অর্ডারে কিছু কথা বলবে। পাশাপাশি তিনি স্পিকারকে বিধি মোতাবেক এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এসময় সাময়িক হট্টগোলের সৃষ্টি হলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, সংসদের রীতি মেনে বিধি-৭১–এর নোটিশগুলো নিয়ে আলোচনা শেষে তিনি বিরোধী দলের আনা নোটিশটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। এজন্য ৩১ মার্চ কার্যসূচির সবশেষ ২ ঘণ্টা এ নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত দেন তিনি। 

তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, পুনরায় প্রশ্নোত্তর পর্ব চলতে থাকে। দিনের কার্যবিধি শেষ হলে, সংসদ আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন ডেপুটি স্পিকার। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *