মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনে সংঘাতের জেরে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে। এতে জ্বালানি সংকট প্রকট হয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রোববার (১০ মে) দেশটির নাগরিকদের গণপরিবহণ ব্যবহারের মাধ্যমে পেট্রোল, ডিজেল ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে সহায়তা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ পরিহার এবং অন্তত এক বছর বিয়ের জন্য হলেও স্বর্ণ কেনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন। এ ছাড়া অফিসের পরিবর্তে বাড়িতে বসে কাজ করার পদ্ধতি (ওয়ার্ক ফরম হোম) পুনরায় চালু করতে আহ্বান জানান তিনি। খবর ইন্ডিয়া টুডের।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, করোনা মহামারিকালে আমরা বাড়ি থেকে কাজ, অনলাইনে মিটিং, ভিডিও কনফারেন্সের মতো অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলাম এবং এ ধরনের আরও অনেক পদ্ধতি গড়ে তুলেছিলাম। আমরা এগুলোতে অভ্যস্তও হয়ে গিয়েছিলাম। আজ সময়ের দাবি হলো, আমরা যেন সেই অনুশীলনগুলো পুনরায় শুরু করি, কারণ তাতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হবে এবং আমাদের অবশ্যই সেগুলোকে আবারও অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এদিন নরেন্দ্র মোদি সরাসরি মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা না দিয়ে বারবার পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে পেট্রল-ডিজেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। পেট্রল-ডিজেল সংরক্ষণের মাধ্যমে তা কেনার জন্য ব্যয় হওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো আমাদের সবার দায়িত্ব।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমি জনগণকে এক বছরের জন্য বিয়েতে স্বর্ণ না কেনার অনুরোধ করছি।
জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের নাগরিকদের ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমাতে এবং কৃষকদের বিদেশ থেকে আমদানি করা রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ভোজ্য তেল আমদানির জন্য আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। যদি প্রতিটি পরিবার ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনে, তবে তা দেশপ্রেমের বড় উদাহরণ হবে। এতে জাতীয় কোষাগারের পাশাপাশি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটবে।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, আরেকটি খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়, তা হলো আমাদের কৃষি। আমরা বিদেশ থেকে বিপুল রাসায়নিক সার আমদানি করি। আমাদের রাসায়নিক সারের ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে এনে প্রাকৃতিক চাষাবাদের দিকে ঝোঁকা উচিত। এভাবে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারব এবং আমাদের খামার ও পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারব।