গাজীপুরের কালীগঞ্জে ধারালো কুড়াল দিয়ে শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জামাতার বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর থানায় গিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকার (৩৫)।
নিহত আব্দুল মজিদ মোড়ল (৭০) উপজেলার জামালপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কলা ব্যবসায়ী ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন মোজাম্মেল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন।
পুলিশ, মামলার এজাহার ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে আব্দুল মজিদ মোড়লের মেয়ে শাহানারা বেগমের (২৮) সঙ্গে মোজাম্মেল হকের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রী শাহানারার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন মোজাম্মেল। টাকা না পেলে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রায় ১৫ দিন আগে শাহানারাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে। এরপর থেকে শাহানারা বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। স্বামীর নির্যাতনের কারণে আর ওই সংসারে ফিরবেন না বলেও পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদ রানা শামিম জানান, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে প্রতিদিনের মতো কলা নিয়ে জামালপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন আব্দুল মজিদ মোড়ল। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাজারের ভাঙ্গারি পট্টি এলাকায় ইলিয়াসের দোকানের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে তার মাথায় ধারালো কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন মোজাম্মেল। কুড়ালের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মজিদ মোড়ল। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. জিয়াউর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে মো. লিটন মোড়ল বাদী হয়ে মোজাম্মেল হককে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ২৪(৮)২ নম্বরে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে মোজাম্মেল নিজেই কালীগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, অভিযুক্তকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠিয়ে কারাগারে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।