বর্ষবরণে প্রস্তুত চারুকলা

পুরোনো বছরের ক্লান্তি ও জীর্ণতা ঝেড়ে ফেলে নতুন আশার আলো নিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণে প্রস্তুত হচ্ছে সারা দেশ। এই উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন মঙ্গল শোভাযাত্রার নানা অনুষঙ্গ। বাঁশ ও কাঠের বিশাল কাঠামো, রঙ-তুলির আঁচড়ে ফুটে ওঠা নকশা আর শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব।

এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণে থাকছে পাঁচটি প্রধান মোটিফ— লাল ঝুঁটির মোরগ, দোতারা, ঘোড়া, পাখি ও শান্তির প্রতীক পায়রা। প্রতিটি প্রতীকের রয়েছে গভীর তাৎপর্য। মোরগ নতুন সূচনার বার্তা দেয়, আর পায়রা বহন করে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা। বাংলার বাউল সংস্কৃতির সংহতি প্রকাশ করছে দোতারা। অন্যদিকে ঘোড়া ও পাখি তুলে ধরছে জীবনের গতি, ছন্দ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। এই প্রতীকগুলোর মাধ্যমে বাঙালির শাশ্বত রূপটিই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন শিল্পীরা।

চারুকলা প্রাঙ্গণে বর্তমানে চলছে বিরামহীন কর্মযজ্ঞ। শিক্ষার্থীরা কেউ বাঁশ-কাঠ কাটছেন, কেউ তৈরি করছেন নানা রঙের মুখোশ ও শিল্পকর্ম। উৎসবের তহবিল সংগ্রহের জন্য এসব শিল্পকর্ম বিক্রিও করা হচ্ছে। আয়োজনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী সিমরান নওয়াজ জানান, পহেলা বৈশাখ কেবল একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির পরিচয় ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এবারের আয়োজনের মাধ্যমে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রে ঐক্য, সম্প্রীতি এবং গণতন্ত্রের এক জোরালো বার্তা পৌঁছে দিতে চান।

উল্লেখ্য, ইউনেসকো কর্তৃক মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে এর গুরুত্ব আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বহুগুণ বেড়ে গেছে। নববর্ষকে ঘিরে শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশেই থাকছে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। পান্তা-ইলিশ ও চিরায়ত পিঠা-পুলির আমেজে গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই ছড়িয়ে পড়বে উৎসবের আনন্দ। জারি, সারি ও বাউল গানের সুরে মুখরিত হবে চারপাশ, যা বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংহতিকে আরও দৃঢ় করবে।

এবার অবশ্য মঙ্গল বা আনন্দ শোভাযাত্রা নয়, এর নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *