দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রধান কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র আবারও পুরোপুরি উৎপাদনহীন হয়ে পড়েছে। আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সচল থাকা দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির মোট তিনটি ইউনিটের কোনোটিতেই বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। এতে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিদ্যুৎ ঘাটতি ও উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশে লোডশেডিং বাড়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট এবং মঙ্গলবার ভোরে তৃতীয় ইউনিটটি পৃথক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। দ্বিতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক জটিলতায় আগে থেকেই বন্ধ থাকায় তিনটি ইউনিটই এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাইরে চলে গেছে।
কারিগরি তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত কেন্দ্রটির তৃতীয় ইউনিট থেকে দৈনিক ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট এবং প্রথম ইউনিট থেকে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছিল। দুটি ইউনিট সচল থাকায় প্রতিদিন গড়ে ২১০ থেকে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হতো, যা চালু রাখতে দিনে প্রায় তিন হাজার ৪০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন পড়ত। বর্তমানে পুরো উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক উৎপাদনে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি জানান, ‘যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত করে দ্রুত তা মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। আশা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইউনিটগুলো মেরামত করে পুনরায় উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব হবে।
তবে ঠিক কবে নাগাদ বা কত দিনের মধ্যে ইউনিটগুলো পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরতে পারবে, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।