ইরান যদি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেয় তাহলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত শেষ করতে প্রস্তুত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহণের মূল জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত হলে ট্রাম্প এই সংঘাতে নিজেদের ‘বিজয়ী’ ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছিলেন। এমনকি তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ ও ঊর্ধ্বতন সহযোগীদের কাছেও চুক্তি ছাড়াই সমঝোতায় পৌঁছানোর এই মনোভাব ব্যক্ত করেন।
তবে তেহরান নতুন কিছু দাবি উত্থাপন করায় পরিস্থিতি আবারও জটিল রূপ নিয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ-চলাচলের অবাধ অনুমতির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শত শত কোটি ডলার ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে ইরান। এর পাশাপাশি ওই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও ইরানের বিরুদ্ধে থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ একযোগে তুলে নেওয়ার শর্তও যুক্ত করা হয়েছে।
সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার আলোচনা শুরুর পর থেকে হোয়াইট হাউস তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধকে প্রধান শর্ত ধরে এগোচ্ছিল। ট্রাম্প পরবর্তীতে আলোচনার গতি বাড়াতে সেই শর্ত স্থগিত করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের পর্যালোচনায় বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ভয় দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখার যে কৌশলগত প্রভাব ইরান তৈরি করেছে, তাতে ট্রাম্পের সামনে বিকল্প পথ আরও সংকুচিত হয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জলপথটি খোলা রয়েছে বলে ওয়াশিংটন দাবি করলেও বাস্তবে এর অচলাবস্থা কাটেনি। ট্রাম্পের কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকির মুখেও তেহরান কোনো নতি স্বীকার না করে একটি ‘দীর্ঘ ও কষ্টকর সংঘাতের’ দিকেই যেন ধাবিত হচ্ছে।