পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস নামাল বাংলাদেশ

মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আলি আঘার ব্যাটিংয়ে দুর্দান্তভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তান। মনে হচ্ছিল ৩০০ রান করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। রীতিমতো পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনে ধস নামিয়েছে স্বাগতিকরা।

২৩১ রানে পাকিস্তানের উইকেট ছিল তিনটি। কিন্তু মাত্র ২৩ রানের ব্যবধানে পাকিস্তান হারিয়েছে আরো ৪ উইকেট। রীতিমতো বাংলাদেশের বোলিং তোপে পড়েছে সফরকারীরা।

৩৯তম ওভারে রিজওয়ান-সালমানের জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সালমানকে রান আউট করে ভাঙে ১০৯ রানের জুটি। যদিও মিরাজের ওই রান আউটে স্পোর্টস স্পিরিট নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। তবুও নিয়ম সিদ্ধ হওয়ায় আউট দেন আম্পায়ার। ৬২ বলে ৬৪ রান করে ফেরার সময় কিছু একটা বলতে বলতেই ড্রেসিং রুমের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি।

এক বল পরই আরেক থিতু হওয়া ব্যাটার রিজওয়ানকেও ফেরান মিরাজ। ৫৯ বলে ৪৪ রান করা রিজওয়ানকে রিশাদ হোসেনের ক্যাচ বানান মিরাজ।

এরপর উইকেটে এসে থিতু হওয়ার আগেই হুসাইন তালাতকে সাজঘরের পথ দেখান রিশাদ। ১৩ বলে ৯ রান করে ফেরেন তিনি। সাত নম্বরে নামা আব্দুল সামাদও ৭ বলে ১১ রান করে রান আউট হয়ে ফেরেন।

রিজওয়ান-সালমানের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়েছে পাকিস্তান

২০তম ওভারে পাকিস্তানের তৃতীয় উইকেট তুলে নিয়েছিলেন নাহিদ রানা। এরপর খেলা হয়েছে আরও ২০ ওভার কিন্তু আর কোনো উইকেট পায়নি বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আলি আঘা। অপরাজিত ৫৫ রানের জুটি গড়েছেন এই দুজন।

এবার শিকার ধরলেন তাসকিন-নাহিদও

মাজ সাদাকাতকে মিরাজ ফেরালেও আরেক ওপেনার শাহিবজাদা টিকে ছিলেন উইকেটে। তবে তাকেও বেশি সময় থাকতে দেননি তাসকিন। ১৮তম ওভারে তাওহিদ হৃদয়ের ক্যাচ বানিয়ে তাকে ফেরত পাঠিয়েছেন টাইগার পেসার। ফেরার আগে ৪৬ বলে ৩১ রান করেছেন শাহিবজাদা।

তিন নম্বরে নামা শামিল হোসেন সতর্ক শুরু করেছিলেন। তবুও তাকে বেশি সময় স্থায়ী হতে দেননি নাহিদ রানা। ২০তম ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন শামিলকে। ফেলার আগে ২২ বলে ৬ রান করেছেন তিনি।

বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দিলেন মিরাজ

এদিনও টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন অধিনায়ক মিরাজ। তবে আজ বাংলাদেশি বোলারদের সুযোগ দেননি পাকিস্তানের দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান আর মাজ সাদাকাত। দুজন মিলে নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন পাওয়ার-প্লে।

পাওয়ার-প্লের ১০ ওভারে বাংলাদেশি বোলারদের রীতিমতো শাসন করেছেন মাজ সাদাকাত। পুরো সময় টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করেছেন তিনি। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ছুটছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। তবে সেটি করতে দেননি মিরাজ। ১৩তম ওভারে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন তাকে। ফেরার আগে করেছেন ৪৬ বলে ৭৫ রান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *