পটুয়াখালী জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার ৮টি উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জ্বর, শরীরে লালচে দাগ এবং কাশির উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ১০৪টি শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে আরও ৮৬টি শিশু।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই এ পর্যন্ত ৮৬টি শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৪৩টি শিশু চিকিৎসাধীন। জেলার ৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৪ জনে। এদের মধ্যে ৩৯টি শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে ৪টি শিশুর শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ৪৪টি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে আসছে।
আক্রান্তের তুলনায় জেলার হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাত্র ২০টি এবং পুরো জেলায় সব মিলিয়ে হামের রোগীদের জন্য মাত্র ৫৪টি বেড বরাদ্দ রয়েছে। শয্যা সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে অনেক শিশুকে হাসপাতালের মেঝেতে (ফ্লোর) শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, আমাদের হাসপাতালে ২৫০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ৬০০ থেকে ৭০০ জন রোগী ভর্তি থাকছে। অবকাঠামো, জনবল এবং ওষুধের বরাদ্দ সংকটের কারণে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে হামের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুত রয়েছে এবং ডাক্তার-নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সকলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত আছেন।
এদিকে জেলায় এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও, ক্রমবর্ধমান রোগীর সংখ্যায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।