ন্যাটোকে ‘কাগজের বাঘ’ আখ্যা দিয়ে জোট ছাড়ার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ন্যাটোর নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট (ন্যাটো) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই জোটকে ‘কাগজের বাঘ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ন্যাটোর সদস্যপদ বজায় রাখার বিষয়টি এখন ‘পুনর্বিবেচনার ঊর্ধ্বে’। খবর মিররের।

তেহরান কর্তৃক গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রাখায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এই প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের কাছে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো এই যুদ্ধে জড়াতে ও জাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোর পরেই ট্রাম্প এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ন্যাটোর মাধ্যমে কখনোই প্রভাবিত হইনি। আমি সবসময়ই জানতাম তারা একটা ‘কাগুজে বাঘ’; এবং পুতিনও তা জানেন।’ ইউক্রেন সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় অন্যদের পাশে থাকলেও প্রয়োজনের সময় মিত্রদের পাশে পাচ্ছে না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে বলেন, ন্যাটো এখন একটি ‘একতরফা পথ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশাধিকার না দেওয়ায় তিনি মিত্রদের সমালোচনা করেন।

রুবিও জানান, এই সংঘাত শেষ হওয়ার পর ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা হবে। ট্রাম্পও রুবিওর এই মন্তব্যে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

ইরান যুদ্ধে সরাসরি জড়িত হতে অস্বীকৃতি জানানোয় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি ব্রিটিশ নৌবাহিনীকে ‘অনুপযুক্ত’ ও তাদের বিমানবাহী রণতরীগুলোকে ‘খেলনা’ বলে উপহাস করেন। জবাবে কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না।

স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেন, ‘বিভিন্ন দিক থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, কিন্তু এই চাপ আমাকে আমার নীতি বা মূল্যবোধ থেকে টলাতে পারবে না।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জবাবে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য মন্ত্রী পিটার কাইল তাকে একজন ‘ব্যতিক্রমী’ ও ‘অপ্রচলিত’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চটকদার ও আক্রমণাত্মক কথাবার্তা বলে মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন ও সবাইকে চাপে রাখার কৌশল ব্যবহার করেন। মূলত অস্থিতিশীলতা তৈরি করে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই তিনি এই ধরনের বাগাড়ম্বরপূর্ণ আচরণ করেন বলে কাইল মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। সেখানে তিনি যুদ্ধের অগ্রগতি ও ন্যাটোর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, এই যুদ্ধ দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *