নোয়াখালীতে ৫ স্তরের নিরাপত্তায় পালিত হচ্ছে দুর্গোৎসব

​ঢাকের বাদ্য, শিউলি ফুলের সুবাস আর দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় মুখর নোয়াখালী জেলা। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহা সপ্তমীর দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে এখন চলছে মহা অষ্টমীর প্রস্তুতি। জেলার ১৯১টি পূজা মণ্ডপে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তবে উৎসবকে ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালীতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা পুলিশ সুদৃঢ় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

​এ বিষয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, প্রতিটি মণ্ডপে আট থেকে ১০ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য এবং ক্ষেত্রবিশেষে গ্রাম পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। এর পাশাপাশি নিয়মিত পুলিশ টহলের পাশাপাশি হোন্ডা মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট কার্যকর রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং এসআরবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক দল দিনরাত মাঠে সক্রিয় থেকে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

​নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার ও জরুরি প্রস্তুতিও নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং লোডশেডিংয়ের বিকল্প হিসেবে আলোর ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

​সড়ক ও মহাসড়কসংলগ্ন মণ্ডপগুলোতে যানজট নিরসন ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করছে ট্রাফিক বিভাগ, বিএনসিসি এবং স্কাউট দলের সদস্যরা। এ ছাড়া নারী, পুরুষ ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি মণ্ডপে পৃথক স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে। সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বদলীয় ও সর্বধর্মীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা কমিটিও।

​এদিকে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি, পূজা উদযাপন পরিষদ এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা নিয়মিত বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করছেন।

​আজ দুই দিনব্যাপী সপ্তমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামীকাল মহা অষ্টমীর অঞ্জলি ও কুমারী পূজাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কঠোর অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *