নেপালের বন্যায় সেই সবুজ বাড়িটির বাসিন্দাদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল?

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার তাণ্ডব দেখেছে পুরো বিশ্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে মাইলের পর মাইল এলাকা প্লাবিত হওয়া, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়া, মানুষের প্রাণহানি এবং পানির তোড়ে ভেসে যাওয়ার মর্মান্তিক সব দৃশ্য। চোখের পলকে তছনছ হয়ে গেছে বিভিন্ন শহর ও বড় বড় স্থাপনা। তবে এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাঝেও মাঝে মাঝে বেঁচে থাকার কিছু বিস্ময়কর গল্প তৈরি হয়। তেমনই একটি অলৌকিক বেঁচে ফেরার ঘটনা সম্প্রতি নেপালের আকস্মিক বন্যার পর নেটিজেনদের ব্যাপক নজর কেড়েছে। খবর এনডিটিভির।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তীব্র গতিতে বয়ে যাওয়া কাদা-পানির তোড়ের মাঝেও একটি সবুজ রঙের দোতলা বাড়ি একাই শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রথম প্রকাশিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, বন্যার পানি এলাকাটিতে আছড়ে পড়ার পর সেই সবুজ বাড়িটির আশপাশের একের পর এক স্থাপনা ও ঘরবাড়ি চোখের সামনে ভেসে ও ভেঙে যাচ্ছে। পানির তীব্র স্রোত বিশাল সব ধ্বংসাবশেষ ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পথের সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছিল। তবে একই বাড়ির পরবর্তী একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চারপাশ ঘিরে বয়ে যাওয়া গর্জনরত প্রবল পানির স্রোতের মুখেও বাড়িটি পুরোপুরি অক্ষত ও অবিচল ছিল।

বাড়িটি ধসে না পড়লেও তার ভেতরে একটি পুরো পরিবার আটকে থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হলে ইন্টারনেটে তাদের ভাগ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়। ভিডিওতে ধারণকৃত গা শিউরে ওঠা দৃশ্যগুলো দেখার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা আটকে পড়া পরিবারটির নিরাপত্তার জন্য সামাজিক মাধ্যমে প্রার্থনার ঝড় তোলেন। একই সঙ্গে আশপাশের বাড়িঘর ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশে গেলেও এটি কীভাবে এই প্রলয়ঙ্করী স্রোতের ধাক্কা সহ্য করে দাঁড়িয়ে রইল, তা নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একটি সাধারণ বাড়ি কীভাবে এমন তাণ্ডব সহ্য করল, তা দেখে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপর এক ব্যবহারকারী আরও একটি ভিডিও শেয়ার করে জানান যে, ওই সবুজ বাড়ির ভেতরে আটকে থাকা পরিবারের সব সদস্যই অলৌকিকভাবে জীবিত এবং নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন। এই স্বস্তিদায়ক খবরে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগে থাকা মানুষদের মাঝে স্বস্তি নেমে আসে। দুটি ভিডিওই অনলাইনে ইতোমধ্যে লাখ লাখ বার দেখা হয়েছে এবং নেটিজেনরা স্বস্তি ও বিস্ময় প্রকাশ করে নানা মন্তব্য করছেন।

ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে তাদের মনের ভেতর যে কী চরম আতঙ্ক চলছিল! তারা কি জীবনের আশা ছেড়ে বিদায় নিচ্ছিল, নাকি বেঁচে গেলে কী করবে তা নিয়ে ভাবছিল? পরিবারটির একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া উচিত।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘এত বড় একটি প্রলয়ঙ্করী আঘাতের পরও বাড়িটি টিকে থাকা প্রমাণ করে মজবুত নির্মাণের গুরুত্ব কতটা।’ বাড়িটির নির্মাণশৈলীর প্রশংসা করে অন্য এক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘যিনি এই ভবনটি তৈরি করেছেন, তাকে স্যালুট।’ আর পরিবারটি অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরায় স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, ‘যাক, সৃষ্টিকর্তাকে অশেষ ধন্যবাদ যে বাড়িটি বন্যায় টিকে গেছে এবং তারা বেঁচে ফিরেছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *