অস্ট্রেলিয়ার টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে টানা তিন জয়ের পর হার দেখেছিল বাংলাদেশ এইচপি দল। ব্যাট-বলে দারুণ পারফরম্যান্সে এক ম্যাচ পরই আবারো জয়ের ধারায় ফিরল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলকে হারিয়ে পুনরুদ্ধার করল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথেম ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান করেছিল বাংলাদেশ এইচপি। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান করতে পেরেছে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দল। বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ২৩ রানের ব্যবধানে।
রান তাড়ায় নেমে আগ্রাসী শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ড। প্রথম ২.৫ ওভারেই ৩০ রান তুলে ফেলে কিউইরা। সেখান থেকে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন রিপন মণ্ডল। ১০ বলে ২৪ রান করা ওপেনার কাটিনি ক্লার্ককে ফেরান সাব্বির রহমানের ক্যাচ বানিয়ে।
এরপর তিনে নামা ম্যাথিউ বয়লিকে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামলে বাংলাদেশকে কিছুটা শাসন করেন ওপেনার ম্যাক্স চূ। দ্বিতীয় উইকেটে অর্ধশত রাতের জুটি গড়েন তারা। এই জুটিতে সহজ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল নিউজিল্যান্ড। স্পিন ঘূর্ণিতে সেই স্বপ্ন ভেঙে দেন টাইগার স্পিনার রাকিবুল হাসান।
ম্যাচের নবম ওভারে ম্যাথিউই বয়লিকে ফিরিয়ে ৫৪ রানের জুটি ভাঙেন রাকিবুল। ২২ বরে ৩১ রান করে ফেরেন এই কিউই ব্যাটার। এরপর ১৩তম ওভারের প্রথম বলে দ্বিতীয় শিকার ধরেন রাকিবুল। ফেরান চার নম্বরে নামা বেভন জ্যাকবসকে (১১ বলে ৮)। দুই বল পরই ফিরিয়ে দেন একপ্রান্ত আগলে রাখা ওপেনার চূ’কে। ৩৩ বলে ৪৪ রান করেন তিনি।
রাকিবুলের এই আক্রমণেই শেষ হয় নিউজিল্যান্ডের লড়াই। এরপর আর কোনো ব্যাটারই সেভাবে দায়িত্ব নিতে পারেননি। ছয় নম্বরে নামা জশ ক্লার্কসন চেষ্টা করলেও সেটি কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
বাংলাদেশের হয়ে সমান ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন রাকিবুল আর রিপন মণ্ডল। একটি করে উইকেট গেছে মোহাম্মদ রুবেল আর আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইনের ঝুলিতে।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ এইচপি দল। প্রথম ওভারেই কোনো রান করে ফিরে যান ওপেনার জিসান আলম। আরেক ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২১ বলে ১৬ রান করে ফেরেন তিনি। চার নম্বরে নামা অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরও দায়িত্ব নিতে পারেননি। ৪ বলে ৩ রান করেই ফিরে যান তিনি।
দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে যায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে দায়িত্ব নেন তিনে নামা আরিফুল ইসলামিআর অভিজ্ঞ সাব্বির রহমান। এই দুজন মিলে গড়েন ৯০ রানের জুটি। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে আরিফুল ফিরলে ভাঙে এই জুটি। ৪৮ বলে ৭১ রান করে বিদায় নেন আরিফুল।
আরিফুল ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান সাব্বির রহমান। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে বড় পুঁজি এনে দেন তিনি। নিজেও তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত সাব্বির অপরাজিত থাকেন ৩৬ বরে ৬২ রানে।
এই জয়ের ফলে ৯ দলের এই টুর্নামেন্টে আবারও শীর্ষস্থান দখল করল লাল-সুবজের প্রতিনিধরা। ৫ ম্যাচ খেলে ৮ পয়েন্ট বাংলাদেশ এইচি দলের। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে রানরেটে পিছিয়ে থাকায় টেবিলের দুইয়ে ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমি একাদশ।