সারা বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে হলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসৃত নীতি ও আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর চান কমিউনিটি সেন্টারে আহলা দরবার শরীফের উদ্যোগে আয়োজিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর সেমিনার ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবদুস সালাম এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, মহানবী (সা.)-এর আগমন সারা বিশ্বের জন্য সুসংবাদ। তাঁর আগমনের মাধ্যমেই ইসলাম শান্তি, মানবতা ও সাম্যের ধর্ম হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামকে নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হলেও রাসুল (সা.) এর প্রদর্শিত পথেই পৃথিবীর কল্যাণ ও সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য সমস্যা প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিনের জমে থাকা এসব সংকট নতুন সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। আগের সরকারের আমলের অনিয়ম ও উদাসীনতার কারণে এসব সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়।
পুরান ঢাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক জলাবদ্ধতার জন্য নাজুক ও ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সাময়িক কোনো পদক্ষেপ নয়, বরং পানি বুড়িগঙ্গায় নিষ্কাশনের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
মো. আবদুস সালাম বলেন, অতীতের অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং খাল, বিল, পুকুর ও খোলা জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পুরান ঢাকার সরু রাস্তা ও ঘনবসতির বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক নাগরিকদের নিজেদের বাসাবাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।
পুরান ঢাকাকে আরও সুন্দর ও পর্যটনবান্ধব করতে বুড়িগঙ্গা নদী পরিষ্কার করার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ, ঘুড়ি ওড়ানো, সাইকেল চালানো, কাওয়ালি ও কাসিদার মতো সংস্কৃতির ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নতুন প্রজন্মকে ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সপ্তাহে দুদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বাসে করে আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, শহীদ মিনার, বড় কাটরা ও তারা মসজিদসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের পরিকল্পনার কথাও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।