ধর্ম অবমাননার অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় এলাকাবাসীর মারধরে কথিত পীর নিহত, আস্তানায় আগুন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ইসলাম ধর্ম বিকৃতি ও পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগে একটি দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মারধরে কথিত পীর শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার ‘কালান্দার বাবা শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরীফে’ এই ঘটনা ঘটে। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তার আরও কয়েকজন অনুসারী আহত হয়েছেন।

অভিযুক্ত শামীম রেজা স্থানীয়ভাবে ‘ভণ্ড পীর’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নিজেকে কখনো স্রষ্টা বা নবী দাবি করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শামীমকে কোরআন সম্পর্কে চরম অবমাননাকর বক্তব্য দিতে দেখা যায়। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ক্ষুব্ধ জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং শামীমকে মারধর করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলী মাস্টারের ছেলে শামীম রেজা ঢাকায় মাস্টার্স সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে তিনি এই বিতর্কিত আস্তানা গড়ে তোলেন। এর আগেও ২০২১ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা তারা দেখেছেন। ভিডিওটি পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপর মুসল্লি ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগে ও ভাঙচুর করেছে। তাদের হামলায় শামীম নিহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *