দুর্গাপূজায় সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে : রাশেদ খাঁন

গত ১৬ বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগের হাতেই দেশের হিন্দু ও সনাতন ধর্মের মানুষ সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও বিএনপি নেতা মো. রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, মন্দির ও সংখ্যালঘুদের ওপর এসব হামলা ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। এবারের দুর্গাপূজায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খাঁন এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের ১৬ বছরের অবৈধ শাসনামলে বারবার সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতকে বোঝাতে চেয়েছে যে—আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে সনাতন ধর্মের মানুষ নিরাপদ থাকবে না। মূলত নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই তারা ভারত সরকারকে এই বার্তা দিয়ে রাজনৈতিক আশীর্বাদ আদায় করেছিল।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ভারত থেকে বসে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের দোসররা নতুন করে নানা চক্রান্ত করছে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব হতে যাচ্ছে। আমাদের কাছে স্পষ্ট তথ্য রয়েছে যে, উৎসবকে কেন্দ্র করে একটি অশুভ মহল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভুল বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চালাতে পারে।

শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে সরকারের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় যাতে নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারে, সেজন্য বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কঠোর পাহারা ও সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, ভারতীয় মিডিয়ার একাংশ বাংলাদেশে উসকানি ও গুজব ছড়াতে সিদ্ধহস্ত। বিচ্ছিন্ন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকেও অতিরঞ্জিত করে সেখানে সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান দীর্ঘকাল ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। এই প্রীতি ও সম্প্রীতি ধ্বংসের সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *