দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

নাহিদ রানার আগুন ঝড়ানো বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে দুইশর আগেই আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ। পরে জবাব দিতে নেমে শুরুতে দুই উইকেট হারালেও ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ব্যাটিং করলেন দুর্দান্ত। দুই মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিং করে নিউজিল্যান্ড গুটিয়ে গিয়েছিল ১৯৮ রানে। পরে ৩৫.২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য ১৯৯ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ।

এই জয়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। ফলে আজ বাংলাদেশ জেতাতে সিরিজে এখন ১-১ ব্যবধানের সমতা।

সোমবার (২০ এপ্রিল) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কিউইদের ১৯৮ রানের জবাব দিতে নেমে শুরুতেই বিপদে পরে যায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই ফেরেন আগের ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করা সাইফ হাসান। প্রায় ছয় মাস পর একাদশে সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকার রান পাননি। তিন নম্বরে নেমে ফিরেছেন ১১ বলে ৮ রান করে। তবে অপর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম একপ্রান্তে অবিচল।

চার নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে দারুণভাবে দলকে টানছেন। কিউই বোলিং পাত্তাই পাচ্ছে না তামিমের সামনে। মাত্র ৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তরুণ ওপেনার। অপর প্রান্ত থেকে তামিমকে বেশ ভালোই সঙ্গ দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

এতটা সময় মনে হচ্ছিল সেঞ্চুরিও পেয়ে যেতে পারেন তানজিদ তামিম। কিন্তু ব্যক্তিগত ৭৮ রানের মাথায় ক্যাচ তুলে সেই সম্ভবনা সত্যি হতে দেননি। তামিম শেষ পর্যন্ত ৫৮ বল খেলে ১০টি চার ৪টি ছয়ে ৭৮ রান করে ফিরেছেন। স্ট্রাইকরেট ১৩১.০৩!

তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত বাকি কাজটা সেড়ে আসার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু নিজের ফিফটি পূর্ন হওয়ার পরই আহত হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় শান্তকে। ফেরার আগে করেন ৭১ বলে ৫টি চার ২টি ছয়ে ৫০ রান।

মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাওহিদ হৃদয় দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছেন। তাওহিদ হৃদয় শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন।

এর আগে বোলিংটা দুর্দান্ত হয়েছে বাংলাদেশ দলের। টস হেরে আগে বোলিং করতে নামে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে দ্রুত জোড়া উইকেট এনে দেন নাহিদ রানা। নিউজিল্যান্ডের দলীয় ২৫ ও ২৮ রানের মাথায় নেহরি নিকোলাস আর উইল ইয়ংকে ফেরান নাহিদ।

এরপর অধিনায়ক টম ল্যাথামের সঙ্গে দারুণ একটা জুটি বেঁধে দলকে টানছিলেন নিক কেলি। পার্ট টাইম বোলার সৌম্য সরকার বেশিদূর এগুতে দেননি টম ল্যাথামকে। ব্যক্তিগত ১৪ রানে কিউই দলপতিকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান সৌম্য।

এরপর মোহাম্মদ আব্বাসকে নিয়ে এগুচ্ছিলেন নিক কেলি। আব্বাসকেও ফিরিয়ে কিউইদের চাপ বাড়ান নাহিদ রানা। ৩৪ বলে ১৯ রান করা আব্বাসকেও উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান নাহিদ।

অনেকটা সময় গলার কাটা হয়ে থাকা নিক কেলিকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোকা বানিয়ে ফেরান লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। দলীয় ১৪৫ রানের মাথায় ১০২ বলে ১৪ চারে ৮৩ রান করা কেলিকে মিডউইকেটে ক্যাচ বানান রিশাদ। কেলি আউট হওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আর কেউ সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি।

৪৫ রানের ব্যবধানে শেষ ছয় উইকেট হরিয়েন সফরকারীরা। ৪৮.৪ ওভারে শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে গুটিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশের পক্ষে নাহিদ রানা ১০ ওভারে ৩২ রান খরচায় নিয়েছেন ৫ উইকেট। ৩২ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *