তেলের উৎপাদন কোটা আবার বাড়ালো ওপেক-প্লাস

তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক-প্লাস রোববার (৫ এপ্রিল) তেলের উৎপাদন কোটা আবারও বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তবে সেই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি স্থাপনাগুলো মেরামত করা ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

টানা দ্বিতীয় মাসের মতো ওপেক-প্লাস দেশগুলো আগামী মে মাস থেকে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল (বিপিডি) তেল উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। জোটভুক্ত দেশের মধ্যে প্রধান তেল উৎপাদনকারী রাশিয়া ও সৌদি আরবের পাশাপাশি ইরানি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া বেশ কিছু উপসাগরীয় দেশও রয়েছে।

তবে ওপেক-প্লাস সতর্ক করেছে যে, জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। জোটের বিবৃতিতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথগুলো সুরক্ষিত রাখার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে সরাসরি ‘ইরান যুদ্ধ’-এর নাম উল্লেখ করা না হলেও, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং দাম বৃদ্ধির পেছনে এই সংঘাতের প্রভাব যে সিদ্ধান্তের ওপর বড় ভূমিকা রেখেছে, তা স্পষ্ট।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর তেহরানও এই অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানার পাশাপাশি ইরান অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী ট্যাঙ্কারগুলোতে হামলার হুমকি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।

এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে যে, এই অঞ্চলের ওপেক-প্লাস সদস্যরা উৎপাদন বাড়াতে পারলেও সেই তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।

অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে দেশটির তেল শিল্পের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত মাসে ওপেক-প্লাস জোটের আটটি দেশ নিয়ে গঠিত ‘ভি-এইট’ (ভলান্টারি এইট) গ্রুপও দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন কোটা বাড়িয়েছিল। রোববার এক বিবৃতিতে ভি-এইট জানায়, অবকাঠামোতে হামলা বা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বিঘ্ন ঘটানোর মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করার যেকোনো পদক্ষেপ বাজারের অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়, যা ওপেক-প্লাসের পক্ষে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন করে তোলে।

ভি-এইটভুক্ত আটটি দেশ হলো- সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া এবং ওমান। বিবৃতিতে ভি-এইট সেইসব সদস্য দেশের প্রশংসা করেছে যারা তেল সরবরাহের জন্য বিকল্প রপ্তানি পথ খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছে, যা বাজারের অস্থিরতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *