ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদনের আইনজীবী ‘ডিফল্টার’!

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বাদী পক্ষে মামলার আবেদন করেন আইনজীবী এ কে এম শরীফ উদ্দিন। তিনি ঢাকা বারের সদস্য। তবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যের স্ট্যাটাসে তার নামের পাশে লেখা রয়েছে ‘ডিফল্টার’। অর্থাৎ তার সদস্য পদ স্থগিত রয়েছে। এতে করে তার ওকালতনামা ও দরখাস্তের ব্যবহার অবৈধ বলে জানিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি।

অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সময় ওকালতনামা ও দরখাস্তে স্বাক্ষর-সিল ব্যবহার করেছেন। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকা আইনজীবী সমিতির ওয়েবসাইটে দেখা যায়, তার মেম্বারশিপ স্ট্যাটাস ‘ডিফল্টার’ হিসেবে রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, কোনো আইনজীবী ডিফল্টার হলে আদালতে প্র্যাকটিসের বৈধতা রাখেন না। কারণ তার ঢাকা বারের মেম্বারশিপ স্থগিত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডিফল্টার হলে আদালতের ওকালতনামা ক্রয়েও বাধা রয়েছে।

‘ডিফল্টার’ হওয়া সত্ত্বেও ওকালতনামা প্রদান ও শুনানি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনজীবী এ কে এম শরীফ উদ্দিন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমার হাইকোর্টের সনদ সক্রিয় রয়েছে। তবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সনদ ডিফল্টার হলে ওকালতনামা ক্রয় করলাম কীভাবে? সেটা আইনজীবী সমিতির লোকজনকে জিজ্ঞাসা করেন। আমার অনেক জুনিয়র রয়েছে তারা আমার ওকালতনামা ব্যবহার করেন। তাছাড়া আমার অনেক আইনজীবী বন্ধু রয়েছে তাদেরও ওকালতনামা চাইলে ব্যবহার করতে পারি।’

এ বিষয়ে ঢাকা বারের অফিস কর্মকর্তা জহির এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আইনজীবী এ কে এম শরীফ উদ্দিন ঢাকা বারের আইনজীবী। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত চাঁদা না দেওয়ায় তিনি ‘ডিফল্টার’। একজন ডিফল্টার আইনজীবী ওকালতনামা ক্রয় ও দাখিল করতে পারেন না। ঢাকা বারের আইন অনুসারে তা অবৈধ।’

ডিফল্টার আইনজীবীর ওকালতনামা ব্যবহার ও ক্রয় প্রসঙ্গে অফিস কর্মকর্তা জহির বলেন, আইনজীবী সমিতির ওয়েবসাইটে তার স্ট্যাটাস ডিফল্টার। কিন্তু ওকালতনামা ক্রয়ের আরেকটা সফটওয়ার রয়েছে। সেখানে আপডেট না হওয়ায় তিনি অবৈধভাবে ওকালতনামা ব্যবহার করেছেন। তবে তিনি চাঁদা পরিশোধ করলে আবার সক্রিয় আইনজীবী হবেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১১নং আদালতের সরকারি কৌঁসুলি কামরুজ্জামান স্বপন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘কোনো আইনজীবী ডিফল্টার হলে ওকালতনামা ক্রয় করতে পারেন না। এ ছাড়া তিনি আদালতে শুনানিতে অংশ নিতে পারেন না। ডিফল্টার হলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বারের ভোটাধিকার হারান এবং ক্ষেত্র বিশেষে তার সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।’

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়। আইনজীবী এ কে এম শরীফ উদ্দিন ওকালতনামা এবং মামলার দরখাস্তে স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করেছেন। এরপরে বিকেলে আদালত মামলাটি খারিজের আদেশ দেন। মামলার আবেদনে বাদী ছিলেন বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা।

যাদের আসামি করার আবেদন করা হয়েছিল তাদের মধ্যে রয়েছেন—বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং সাবেক শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জুবায়ের।

এছাড়া প্রতিরক্ষা সচিব, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, এয়ার ভাইস মার্শাল মোরশেদ মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন রিফাত আক্তার জিকুসহ রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও আসামি করার আবেদন করা হয়।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে গভর্নিং বডির উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরনবী, অধ্যক্ষ জিয়াউল আলম, প্রিন্সিপাল (প্রশাসন) মাসুদ আলম এবং স্কুল শাখার প্রিন্সিপাল রিফাত নবীর নামও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নথি থেকে জানা গেছে, গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় মোট ৩৬ জন নিহত এবং ১২৪ জন আহত হন। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যুদ্ধবিমানের পাইলটের উড্ডয়ন-ত্রুটি চিহ্নিত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *