ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : রেলপথ প্রতিমন্ত্রী

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, রেলওয়েকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে ট্রেনের সেবার মান বাড়াতে এবং টিকিট কালোবাজারি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেবার মান বৃদ্ধি এবং অব্যবস্থাপনা দূর করার ওপর জোর দিয়েছে সরকার।

আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

হাবিবুর রশিদ বলেন, বর্তমানে রেলওয়ের আধুনিকায়নের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ট্রেনে ওয়াইফাই সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি ট্রেনে চালু আছে এবং ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে সব ট্রেনেই এই সেবা নিশ্চিত করা হবে।

ট্রেন দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ট্রেনকে নিরাপদ বাহন হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান ট্রেন যেন সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে একটি জনপ্রিয় বাহন হয়। মানুষের দোরগোড়ায় রেলসেবা পৌঁছে দিতে এবং সেবার পরিধি আরও বাড়াতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

চট্টগ্রাম রেল স্টেশন নিয়েও সরকারের বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান হাবিবুর রশিদ।

রেলের লোকসান কমিয়ে লাভজনক করার বিষয়ে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা রেলের অব্যবস্থাপনা ও অপচয়ের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রেলকে একটি লাভজনক সংস্থায় রূপান্তরের কাজ চলছে।

টিকিট বিক্রির সফটওয়্যারে ত্রুটি এবং কালোবাজারি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে আমরা রেল মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছি। সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতার কারণে টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া এবং পরে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠছে। এ অবস্থা কাটাতে টিকিটিং ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে কাজ চলছে।

হাবিবুর রশিদ আরও বলেন, টিকিট নিয়ে যেন কোনো অভিযোগ না থাকে, সেজন্য সফটওয়্যার উন্নত করার এবং সিস্টেম ডেভেলপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে টিকিট কালোবাজারি বা কোনো ধরনের দুর্নীতির সুযোগ না থাকে।

ঈদের ট্রেন যাত্রা নিয়ে যাত্রীদের অভিব্যক্তি কেমন, জানতে চাইলে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের অভিব্যক্তি মোটামুটি ভালো ছিল। তবে কানেক্টিং ট্রেনগুলোতে তাদের দেরি হয়েছে। সেই জায়গায় তাদের অভিযোগ ছিল এবং এই কারণে আমি আসার পর যে জিনিসটি তাদের অভিযোগ, তারা অনেকে ময়মনসিংহ-জামালপুর থেকে এসেছে। অনেকেই সিলেট থেকে এসেছে। কানেক্টিং ট্রেনগুলোতে তাদের দেরি হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, এ ভোগান্তির কথা যাত্রীরা আমাদের বলেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি রেল কর্তৃপক্ষকে বলেছি, যাতে এই ভোগান্তি দূর করা হয় এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এর আগে রেল স্টেশনে অপেক্ষমান যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী। তিনি তাদের কাছে ট্রেন যাত্রার বিষয়ে জানতে চান।

পরিদর্শনকালে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *