মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভ্যাটিকানে পোপ চতুর্দশ লিওর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠক এমন এক সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভ্যাটিকানের মধ্যে ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য ও অভিবাসন ইস্যুতে উত্তেজনা তুঙ্গে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে পোপের সমালোচনা করছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে মূলত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, পশ্চিম গোলার্ধের বিভিন্ন কূটনৈতিক ইস্যু এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই যুক্তরাষ্ট্র-ভ্যাটিকান সম্পর্ককে ‘শক্তিশালী অংশীদারিত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে শান্তি ও মানব মর্যাদা রক্ষায় যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। খবর সিএনএনের।
ভ্যাটিকানের তথ্য অনুযায়ী, রুবিও প্রথমে পোপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, এরপর কার্ডিনাল পিয়েত্রো প্যারোলিন ও ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্চবিশপ পল আর. গ্যালাঘারের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল, মানবিক সংকট ও কিউবা পরিস্থিতিও উঠে আসে।
এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ও ভ্যাটিকানের মধ্যে সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনে রয়েছে। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের বিরোধিতা করে পোপ শান্তির আহ্বান জানানোয় ওয়াশিংটন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়।
ট্রাম্প সম্প্রতি পোপকে ‘বৈদেশিক নীতিতে দুর্বল’ বলে সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, পোপের মন্তব্য মার্কিন নীতির বিরোধী। এর জবাবে পোপ বলেন, তিনি শান্তির পক্ষে কথা বলতেই থাকবেন এবং সমালোচনা এলে ‘সত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত’।
বৈঠকের পর বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং দুই পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমনের প্রচেষ্টা। তবে ট্রাম্প ও ভ্যাটিকানের অবস্থান ইরান, অভিবাসন ও যুদ্ধনীতি নিয়ে এখনও ভিন্ন মেরুতে রয়েছে।
ভ্যাটিকান কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই বৈঠক দুই পক্ষের মধ্যে ‘কঠোর ভাষার উত্তেজনা কমিয়ে আনার’ একটি চেষ্টা, যদিও মৌলিক মতপার্থক্য এখনও বহাল।