জ্বালানি তেলের দাম ৮০ দেশে বাড়লেও বাংলাদেশে বাড়ছে না : প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ৮০টি দেশ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার এখনও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা করছে না।

আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর ১২টায় যশোরে দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের এককালীন চেক বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার আগামী এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। এখন সরকার ৯০ দিনের জ্বালানি চাহিদা মজুত করতে চায়। সে বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিশ্ব এখন থেকে কম-বেশি সংকতের মধ্য দিয়েই পরিচালিত হবে। নতুন এই বাস্তবতার সঙ্গে আমাদের অভ্যস্ত হতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করলে বিদ্যুতের দাম বাড়বে, গণপরিবহণের খরচ বাড়বে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে। জীবনযাত্রা আরও কষ্টকর হয়ে উঠবে। করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অর্থনীতি এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছে। জিনিসপত্রের দাম আরেক দফা বাড়লে এই চাপ অসহনীয় হয়ে যাবে। তাই চারদিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছে, কিন্তু চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের মার্চে গড়ে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা ছিল ১২ হাজার মেট্রিক টন। পেট্রল-অকটেনের চাহিদা ছিল গড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। এবার ঈদুল ফিতরের আগে গড়ে প্রতিদিন ২৪ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। গত বছর মার্চ মাসেও ঈদুল ফিতর ও মাহে রমজান ছিল।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে—ঢাকা শহরের নামকরা একটি পেট্রল পাম্প ২০২৫ সালের মার্চ মাসে গড়ে পাঁচ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি করেছে। বর্তমানে সেই পাম্পে গড়ে ৯ থেকে ১০ হাজার লিটার অকটেন সরবরাহ করা হলেও দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ যাতে না বাড়ে, তা নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জ্বালানির পেছনে গড়ে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে পাঁচটি দেশের জাহাজ চলাচলের ব্যাপারে ইরান অনুমতি দিয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের নামও রয়েছে। এটি এমনিতেই অর্জিত হয়নি; এটি বর্তমান সরকারের একটি কূটনৈতিক সাফল্য।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে পৃথিবীর যে প্রান্তে আমাদের পৌঁছানো দরকার, সে প্রান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি আমরা।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এবং যশোর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ, সহকারী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, এ দফায় যশোর জেলার ১৫৩ জন অসহায় ও দুঃস্থ নারী-পুরুষকে মোট ৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *