ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে তোড়জোড়, আলোচনায় যারা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পর দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনকে ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা ও প্রস্তুতি।

ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবিসহ নানা সাংগঠনিক কারণে ইতোমধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছে বিএনপির প্রধান সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল। এদিকে ১ মার্চ রাকিব–নাছির নেতৃত্বাধীন কমিটির দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি ঘোষণার বিষয়ে ইতিবাচক ভাবনা শুরু করেছে দলের হাইকমান্ড। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সিলেকশনের পরিবর্তে কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

ছাত্রদলের সর্বশেষ পাঁচটি কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে রাজীব–আকরাম কমিটি ছাড়া বাকি চারটি প্রায় দুই বছর মেয়াদ পালন করেছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব গঠনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদকে কেন্দ্র করে সংগঠনের ভেতরে চলছে নানা সমীকরণ, লবিং ও আলোচনা।

সভাপতি পদে আলোচনায় যারা

সিনিয়র কমিটি হলে ০৭–০৮ সেশন থেকে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম।

০৮–০৯ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন সহসভাপতি এজাজুল কবির রুয়েল, রিয়াদ রহমান, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, এইচ এম আবু জাফর, খোরশেদ আলম সোহেল ও সাফি ইসলাম।

অন্যদিকে ২০০৯–১০ সেশন থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে আলোচনা রয়েছে। এই সেশন থেকে সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান। আর ২০১০-১১ সেশনের নেতাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন ঢাবি শাখার ১ নম্বর সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, মোস্তাফিজুর রহমান, প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ, ফারুক হোসেন, মাসুদুর রহমান, মো. বায়েজিদ হোসাইন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা

১০–১১ সেশন থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও মাসুম বিল্লাহ।

১১–১২ সেশন থেকে আলোচনায় আছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, তারিকুল ইসলাম তারিক এবং তারেক হাসান মামুন।

পদপ্রত্যাশী নেতারা বলছেন, যারা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করে কমিটি গঠন করা হলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ হবে। তাদের মতে, দুই বছর মেয়াদি কমিটির সময় শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠন এখন সময়ের দাবি।

তবে শেষ পর্যন্ত নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের কাছ থেকেই। তিনি যাকে যে দায়িত্ব দেবেন, সেটিই দলীয়ভাবে গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *