সারাদেশে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে আকস্মিক বজ্রাঘাতে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম ও হবিগঞ্জে আটজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কৃষক, মৎস্যশিকারী ও ধানকাটা শ্রমিক রয়েছেন। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত—
সুনামগঞ্জে ৩ জনের মৃত্যু
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী জানান, সোমবার বিকেলে সদর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রাঘাতে তিনজন নিহত হয়েছেন। দেখার হাওরে ধান কাটার সময় আব্দুল্লাহপুর গ্রামের কৃষক জমির উদ্দিন (৪৭) নিহত হন। একই সময় বৈঠাখালী গ্রামে দোকানের সামনে বসা অবস্থায় বজ্রাঘাতের শব্দে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান জমির হোসেন (৪৫)। এ ছাড়া জামালগঞ্জে হাওর থেকে গরু আনতে গিয়ে আবু সালেক (২০) নামে এক যুবক নিহত হন।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বজ্রাঘাতে তিনজন মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। একজন সরাসরি বজ্রাঘাতে, অন্য দুজন বজ্রাঘাতের শব্দে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। তাদের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গেছে।
নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে নিহত ৩
নেত্রকোনা প্রতিনিধি ভজন দাস জানান, খালিয়াজুরীতে পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতের ঘটনায় আজ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সকালে জগন্নাথপুর ফেরিঘাটে ধনু নদীতে মাছ ধরার সময় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মৎস্যশিকারী আব্দুল মোতালিব (৫৫) প্রাণ হারান। দুপুরে সাতগাঁ গ্রামে বাড়ির সামনের হাওরে ধান শুকাতে গিয়ে কৃষক মোনায়েম খাঁ এবং কৃষ্ণপুর গ্রামের হাওরে ধান কাটার সময় সিরাজগঞ্জ থেকে আসা শ্রমিক শুভ মণ্ডল বজ্রাঘাতে নিহত হন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের মৃত্যু
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি আরিস আহমেদ জানান, রাঙ্গুনিয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রাঘাতে আহত কৃষক মো. আমির শরীফ (৬২) আজ ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় শান্তিনিকেতন এলাকায় বিলে সেচ দিতে গিয়ে তিনি বজ্রাঘাতে আহত হন। তার পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ঝড়ের প্রভাবে ওই এলাকায় গাছ উপড়ে সড়ক যোগাযোগও সাময়িক ব্যাহত হয়েছে। এদিকে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে উপজেলার কালিন্দী রানী সড়কের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়।
হবিগঞ্জে ধান কাটার সময় কৃষকের মৃত্যু
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি মো. সেলিম মিয়া জানান, নবীগঞ্জ উপজেলার গড়দার হাওড়ে আজ বিকেলে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে মকছুদ আলী (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি নোয়াগাঁও গ্রামের ছাবর উল্লার ছেলে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, নিহত ব্যক্তির দরিদ্র পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় খোলা জায়গায় অবস্থান না করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।