ঘাঘট তীরে পুণ্যার্থীর ঢল: সাদুল্লাপুরে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমীর স্নান ও বারুন্নী মেলা সম্পন্নসাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) থেকে আবুল কালাম আজাদ |গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কল্যানপুরে ঘাঘট নদীর তীরে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী অষ্টমীর স্নান ও বারুন্নী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের এই পুণ্য তিথিতে পাপ মোচনের আশায় ভোররাত থেকেই হাজার হাজার পুণ্যার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে নদী তীরবর্তী এই জনপদ।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ তিথিতে ঘাঘট নদীর পবিত্র জলে স্নান করলে মনের কলুষতা দূর হয়। গতকাল সূর্যোদয়ের আগে থেকেই গাইবান্ধা জেলা ছাড়াও রংপুর, কুড়িগ্রাম ও পীরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু কল্যানপুর ঘাটে সমবেত হন। উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি আর মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পুণ্যার্থীরা স্নান সম্পন্ন করেন এবং পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য তর্পণ করেন। স্নান শেষে নদীর তীরে ফুল, বেলপাতা ও দুধ ঢেলে পূজা- অর্চনা করতে দেখা যায় অনেককে।স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে কল্যানপুর এলাকায় বসেছে বিশাল ‘বারুন্নী মেলা’। এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতিফলন ঘটেছে। মেলায় মাটির তৈরি খেলনা, হাঁড়ি-পাতিল, বাঁশ ও বেতের আসবাবপত্রের ব্যাপক সমাহার লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া কাঠের তৈরি গৃহস্থালি সরঞ্জাম এবং মেলার ঐতিহ্যবাহী জিলাপি, কদমা ও বাতাসা কিনতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা ও ছোট ছোট সাংস্কৃতিক আয়োজন মেলার আনন্দকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।কল্যানপুরের এই বারুন্নী মেলা কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি পরিণত হয়েছে সব ধর্মের মানুষের এক মিলনমেলায়। স্থানীয় মুসলিম ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মেলায় অংশগ্রহণ করেন। দর্শনার্থীদের মতে, এই মেলা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের মানুষের সামাজিক সম্প্রীতির এক প্রাচীন মাধ্যম।মেলা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর পুণ্যার্থীদের সংখ্যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।ঘাঘট নদীর নাব্য সংকটের কারণে কিছু জায়গায় স্নান করতে পুণ্যার্থীদের বেগ পেতে হলেও, দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মাঝে যে উৎসাহ দেখা গেছে, তা ছিল চোখে পড়ার মতো।