গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুজনে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল রাফি (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর পর শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইয়াছিন (১৭) নামে আরও এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ইয়াছিন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওরা গ্রামের বাসিন্দা। সে টুঙ্গিপাড়া থানাধীন পাচকাহনিয়া মাদ্রাসার মিঝান জামাতের শিক্ষার্থী ছিল। অন্যদিকে নিহত আল রাফি স্থানীয় একটি স্কুলের ছাত্র ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে তিন তরুণ একটি মোটরসাইকেলে চড়ে বেপরোয়া গতিতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক পিলারে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিন আরোহীই ছিটকে পড়ে মারাত্মক আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাদের গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে আল রাফিকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অন্যদিকে মারাত্মক আহত ইয়াছিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইয়াছিনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় আহত অপর মাদ্রাসাছাত্রও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
টুঙ্গিপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল ইসলাম ইয়াছিনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব আলী জানান, বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত তিনজনের মধ্যে ইতোমধ্যেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।