গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সানজিদা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ইমরান শেখকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দাম্পত্য কলহের জেরে সানজিদা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের সাফলীডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, ইমরানের পরকীয়ার জেরে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

নিহত গৃহবধূ সানজিদা বেগম উপজেলার রাতইল গ্রামের কালাম মোল্যার মেয়ে। তার দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত সানজিদার বড় ভাই সজীব মোল্লা বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে কাশিয়ানী থানায় মামলা করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।

স্থানীয়রা জানায়, দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। গত সোমবার দিনগত রাতে স্বামীর মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে সানজিদা প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেন। পরে নিজ বাড়িতে ফিরে ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতে প্রতিবেশী বিলকিস বেগম সানজিদার খোঁজ নিতে গিয়ে জানালা দিয়ে তাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি তিনি প্রতিবেশীদের জানান। পরে সকালে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত সানজিদার মেজ ভাই হামিম মোল্যা বলেন, আমার বোনের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার শ্বশুরবাড়ি ফুকরা গ্রামে গেলে সেখানকার স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি, প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। ধারণা করছি, এ বিরোধের জেরেই আমার বোন সানজিদাকে হত্যা করে ঘরের মধ্যে ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি। যে নারীর সঙ্গে আমার বোনের স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাস্থলে পুলিশ যাওয়ার পরে সেই নারীসহ তাদের পরিবারের লোকজন ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছে।

কাশিয়ানী থানার রামদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোল্যা আফজাল হোসেন বলেন, দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *