গাজীপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলাজুড়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস

আগামীকাল বুধবার (২০ মে) গাজীপুর সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো গাজীপুর জেলাজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি, সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে অভূতপূর্ব উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল আকর্ষণ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ ২০২৬। আগামীকাল সকালে তিনি সফিপুর আনসার একাডেমিতে আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় কুচকাওয়াজ ও জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন এবং বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন।

এছাড়া জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আনসার একাডেমির অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরের গাছা এলাকায় এক ঐতিহাসিক উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা করবেন। তিনি সেখানে ‘জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এ ধরনের বিশেষায়িত ভবন বাংলাদেশে এটাই প্রথম। এই ইনস্টিটিউট দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গাজীপুরের মাটিতে মিশে আছে শৈশব ও পিতার কর্মময় স্মৃতি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর এক আবেগ ও ইতিহাস। গাজীপুরের এই মাটির সাথে জড়িয়ে আছে তাঁর শিশুকালের মধুর স্মৃতি।

একই সাথে, এ শহরে প্রোথিত রয়েছে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৭৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে গাজীপুরকে ঢাকা জেলা থেকে আলাদা করে নতুন মহকুমা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজে উপস্থিত থেকে সেই ঐতিহাসিক মহকুমা ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন।

১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গাজীপুরকে মহকুমা ঘোষণা করে এই অঞ্চলের মানুষের আত্মপরিচয় ও উন্নয়নের যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আজ এই জেলা একটি অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক হাবে পরিণত হয়েছে।

শহীদ জিয়ার সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কারণে গাজীপুরের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর পরিবারের প্রতি রয়েছে এক গভীর আত্মিক টান এবং আজন্ম কৃতজ্ঞতা। ফলে, আগামীকাল তাঁদেরই প্রিয় সন্তান ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সর্বস্তরের জনতা।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে গাছা ও সফিপুরসহ পুরো গাজীপুর মহানগরীকে নান্দনিক সাজে সাজানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি গাজীপুরবাসীর জন্য এক ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *