আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুগুলোর দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। মূলত ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির আশা ম্লান হওয়া ও তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে। খবর রয়টার্সের।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ মে) স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৬৬৯ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮৪ দশমিক ৩০ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ ও প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি ও সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় বর্তমানে স্বর্ণের দাম চাপের মুখে রয়েছে। তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় স্ট্যাগফ্লেশন বা মন্দার সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রাখবে, যা সাধারণত স্বর্ণের মতো বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পাশাপাশি, ইরানের দেওয়া প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনা এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ বা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
ইউবিএস ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের কৌশলবিদদের মতে, সাময়িকভাবে দাম কমলেও দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজার চাঙ্গা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা মনে করছেন, চলতি বছরেই স্বর্ণের দাম বর্তমান স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। আপাতত বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে বেইজিংয়ে শুরু হতে যাওয়া ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের দিকে।