ইসলামাবাদের দিকে সবার নজর

মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ কী?

পুরো বিশ্বের দৃষ্টি এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে। সেখানে অনুষ্ঠাতব্য শান্তি আলোচনার ওপর নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ। তবে এই আলোচনার পেছনে উপসাগরীয় দেশগুলোর (জিসিসি) গভীর উদ্বেগ ও সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি আলোচনার টেবিলকে আরও জটিল করে তুলছে। খবর আল জাজিরার।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করার আগে জিসিসি দেশগুলোর সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেননি, যা তাদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি করেছে। তারা আগেই সতর্ক করেছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। এখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও জিসিসি দেশগুলোর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েকমাস সময় লেগে যেতে পারে। ফলে তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো এই আলোচনায় অন্যতম প্রধান গুরুত্ব পাচ্ছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান লক্ষ্য হলো ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেওয়া, যাতে তাদের জ্বালানি সরবরাহ বিশ্ববাজারে নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া, তারা চায় লেবাননকেও এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত করতে। কারণ লেবাননকে বাইরে রেখে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি আনা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করে।

আলোচনার পরিবেশে একটি বড় শঙ্কা কাজ করছে ইসরায়েলকে নিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েল এই শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত বা লাইনচ্যুত করার চেষ্টা করতে পারে। জিসিসি চায় কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও জ্বালানি বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

এটি এখন আর কেবল একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়। বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা সমগ্র বিশ্ববাজারের জন্য অপরিহার্য। ফলে ইসলামাবাদের এই আলোচনা শুধু ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক বড় পরীক্ষা।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ইসলামাবাদ মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব অর্থনীতি

sn/sks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *