ইসরায়েলকে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

ইসরায়েলের কাছে প্রায় ১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কংগ্রেসের স্বাভাবিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পলিটিক্যাল-মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানায়, প্রস্তাবিত এই অস্ত্রচুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে ১২ হাজার বিএলইউ-১১০এ/বি ধরনের সাধারণ উদ্দেশ্যের বোমা কেসিং সরবরাহ করা হবে। প্রতিটি বোমার ওজন প্রায় এক হাজার পাউন্ড। এর সঙ্গে প্রকৌশল, লজিস্টিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় এই অস্ত্র বিক্রির প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করেছেন। এ কারণে অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা অনুযায়ী কংগ্রেসের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এই চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গারল্যান্ডভিত্তিক রেপকন ইউএসএ কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। সরবরাহ করা বোমার একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সামরিক মজুদ থেকেও দেওয়া হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি মার্কিন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কুয়েতে এক ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

তবে এই অস্ত্র বিক্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ভেতরেও সমালোচনা রয়েছে। গাজায় চলমান যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স বলেন, কংগ্রেসের পর্যালোচনা এড়িয়ে জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করা প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তার ভাষায়, এই যুদ্ধের জন্য প্রশাসন প্রস্তুত ছিল বলে বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু এখন জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে কংগ্রেসকে পাশ কাটানো ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *