ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে একইসঙ্গে ‘সুসংবাদ’ ও ‘দুঃসংবাদ’ কেন বললেন জেডি ভ্যান্স?

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে চলা ঐতিহাসিক বৈঠকটি কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনাকে একই সঙ্গে ‘সুসংবাদ’ ও ‘দুঃসংবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। খবর বিবিসির।

জেডি ভ্যান্সের মতে, সুসংবাদ হলো এই প্রথম দুই পক্ষ অত্যন্ত গভীর ও সারগর্ভ আলোচনা করেছে। আর দুঃসংবাদ হলো, দীর্ঘ ২১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই ম্যারাথন বৈঠক শেষেও তারা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেননি। ভ্যান্স একে ইরানের জন্য একটি ‘বড় দুঃসংবাদ’ বলে সতর্ক করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকানরা এই ধারণা নিয়ে পাকিস্তানে এসেছিল যে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরান এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তারা দ্রুত আপস করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ভ্যান্স বলেন, ‘তারা আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি হয়নি’।

সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও ইরান এই বিশ্বাস নিয়ে আলোচনায় বসেছিল যে তারা এখনও শক্তিশালী। দেশটির হাতে এখনও বড় তাসের গুটি হিসেবে রয়েছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ, যা তাদের দর কষাকষির সুযোগ করে দিয়েছে।

এক দশক আগে যখন তেহরান ও ওয়াশিংটন পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছেছিল, তখন সেটি সম্পন্ন করতে ১৮ মাস সময় লেগেছিল। সেই তুলনায় মাত্র ২১ ঘণ্টার একটি বৈঠকে চূড়ান্ত সমাধান আশা করা ছিল উচ্চাভিলাষী।

ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এক কঠিন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখোমুখি। ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে—হয় সামরিক শক্তি বাড়িয়ে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া, অথবা দীর্ঘমেয়াদি কূটনীতির মাধ্যমে নতুন কোনো আলোচনার সুযোগ তৈরি করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *