মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে পেন্টাগন ইরানে সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোতে অভিযানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে শনিবার (২৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব পরিকল্পনায় বিশেষ অভিযান বাহিনী ও নিয়মিত পদাতিক সেনাদের অংশগ্রহণ থাকতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এসব পরিকল্পনার অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যেকোনো স্থল অভিযান পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর্যায়ে যাবে না।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। দ্বীপটিতে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল টার্মিনাল রয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী অন্যান্য উপকূলীয় এলাকাতেও অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ‘বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজকে লক্ষ্য করতে সক্ষম অস্ত্র খুঁজে বের করে ধ্বংস’ করা হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ করে দিয়েছে।
একটি সূত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছে, বিবেচনাধীন লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে ‘মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহ’ সময় লাগতে পারে। আরেকজনের মতে, সম্ভাব্য সময়সীমা ‘কয়েক মাস’ পর্যন্ত হতে পারে।
মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত এক সাবেক জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, এসব পরিকল্পনা ব্যাপক আকারের। তিনি ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ে কাজ করেছি। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অনুশীলন (ওয়ার-গেমড) করা হয়েছে। এটি শেষ মুহূর্তের পরিকল্পনা নয়।’
তিনি আরও বলেন, ইরানের ভূখণ্ড দখল করলে তাদের প্রশাসন ‘বিব্রত’ হবে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ দরকষাকষির উপাদান’ তৈরি হবে।
তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দখল করা এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে নিরাপত্তা দেয়া। ওই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন,
সম্প্রতি খার্গ দ্বীপ দখল নিয়ে জল্পনা বেড়েছে, যা ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চলতি মাসের শুরুর দিকে দ্বীপটিতে মার্কিন বিমান হামলাও চালানো হয় এবং ট্রাম্প এটিকে তেহরানের ‘মুকুটের রত্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বারবার ইরানকে আহ্বান জানিয়ে আসছেন হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রফতানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ।