ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইয়েমেন যুদ্ধে মিসর বা অন্য কোনো দেশের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে ‘আরও জটিল’ করে তুলবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘আল-ইরাকিয়া’-তে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, ‘মিসরের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে যাতে তারা নিজেদের এমন একটি অত্যন্ত জটিল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখতে পারে।’
আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে যেকোনো বৈদেশিক উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপ এই সমস্যার সমাধানকে কেবল আরও কঠিনই করে তুলবে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, মিসর ইতোমধ্যে জানিয়েছে তারা ইয়েমেনে প্রবেশ করবে না বা ইয়েমেনের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হবে না।
ইরান-সমর্থিত হুতি এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধটি গত জুলাইয়ে নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করে।
হুতিরা সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বেশিরভাগ অংশ দখল করে নেয় এবং তারপর থেকে তারা সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কারখানা ‘আরামকো’ এবং রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। রিয়াদে গত ১০ অক্টোবর হুথিদের হামলায় ১৩ জন নিহত হন।
এদিকে, সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির অনুরোধ সম্পর্কিত একটি বিতর্ক আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত স্থগিত করেছে মিসরের সংসদ।
ইরান-সমর্থিত হুথিদের কাছ থেকে প্রায় প্রতিদিনই হামলার শিকার হওয়া সৌদি আরব যদি কোনো সহায়তার অনুরোধ জানায়, তবে দেশটিকে সামরিক সহায়তা অনুমোদন করতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান সিসি।
সিসি অবশ্য স্পষ্ট করে বলেন যে, মিসর কাউকে আক্রমণ বা কারও মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করছে না। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা কেবল প্রতিরক্ষার বিষয়ে কথা বলছি।’