যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় যুবশক্তি।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় যুবশক্তির দপ্তর উপকমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শাকিল আহমাদ ইকবাল স্বক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হুইলচেয়ারে থাকা অবস্থায় একদল আওয়ামী লীগ সমর্থকের হাতে পথরোধ ও হেনস্থার শিকার হয়েছেন। জাতীয় যুবশক্তি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তারা পালিয়ে যায়। সেই কঠিন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ড. ইউনূস। বিশ্বজুড়ে সম্মানিত একজন ব্যক্তিত্বকে বিদেশের মাটিতে, সবার সামনে, অসুস্থতার সময় হুইলচেয়ারে থাকা অবস্থায় ঘিরে ধরে গালিগালাজ ও কটূক্তি করা কোনো স্বাভাবিক প্রতিবাদ নয়। এটি সুস্পষ্ট হেনস্থা, অসভ্যতা ও রাজনৈতিক হিংস্রতার বহিঃপ্রকাশ, যা গণহত্যারকারী নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ কালচার হিসেবে প্র্যাকটিস করে।
পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা পরিকল্পিতভাবে জুলাইয়ের শক্তিদের বিদেশের মাটিসহ সর্বত্র হেনস্থা ও আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতঃপূর্বে জেনেভা, লন্ডন ও নিউইয়র্কে জুলাইয়ের নেতৃবৃন্দের ওপর একই ধরনের হামলা ও হেনস্তার ঘটনা এই ধারাবাহিকতারই প্রমাণ। জুলাই গণহত্যার বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, এই ভয়ে তারা আজ প্রবাসে বসে বিভ্রান্তি ও উসকানি ছড়াচ্ছে। যারা এক সময় রাষ্ট্রক্ষমতার জোরে ভিন্নমতের কণ্ঠ রোধ করেছে, তারা এখন গণতন্ত্রের নাম নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের আশ্রয় নিচ্ছে। এটা তাদের চরম ভণ্ডামি। এই ঘটনায় বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে।
প্রবাসে অবস্থানরত ফ্যাসিবাদের দোসরদের অপতৎপরতা ও মিথ্যা প্রচারণা রুখতে সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক নাগরিককে সজাগ থাকতে হবে। জাতীয় যুবশক্তি ঘোষণা করছে, জুলাইয়ের চেতনাকে কেউ ভয় দেখিয়ে বা অপমান করে দমাতে পারবে না। ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের যেকোনো অপচেষ্টা তরুণ সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।