আদালতে চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি তরুণীর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসক্তির কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ভুক্তভোগী তরুণী কেইলি জি.এম.। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, শৈশবে ইউটিউব-ইনস্টাগ্রামের অতিরিক্ত ব্যবহার তাঁকে বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার চিন্তার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির। 

আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কেইলি জানান, মাত্র ৬ বছর বয়স থেকেই তিনি ইউটিউব ভিডিওর প্রতি প্রচণ্ডভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আমি খুব ছোট ছিলাম। আমি সব সময় ইউটিউবে কাটাতাম। আমি যখনই নিজেকে এটি থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করতাম, তখনই ব্যর্থ হতাম। 

এমনকি ইনস্টাগ্রামে বুলিং বা হেনস্তার শিকার হওয়া সত্ত্বেও ওই তরুণী অ্যাপটি ছাড়তে পারেননি। তাঁর আইনজীবী মার্ক ল্যানিয়ার জানান, আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী কেইলি একদিনে টানা ১৬ ঘণ্টা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেছিলেন।

কেইলি আরও বর্ণনা করেন, অ্যাপ ব্যবহারের নেশায় তিনি পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতে লুকিয়ে ফোন ব্যবহার করতেন। অ্যাপ ব্যবহার করতে না দিলে প্রচণ্ড মন খারাপ করতেন। ১২ বছর বয়সে যখন তাঁকে থেরাপিতে পাঠানো হয়, তখন তিনি প্রথম সেশনেই জানিয়েছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণে তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারছেন না। এছাড়া ছোটবেলা থেকেই ইনস্টাগ্রামে নিজের চোখ বড় বা কান ছোট দেখানোর জন্য অতিরিক্ত ‘ফিল্টার’ ব্যবহারের অভ্যাসের কথাও জানান।

জেরার মুখে কেইলি তাঁর শৈশবের কিছু কষ্টের কথা তুলে ধরেন, যা বিবাদী পক্ষ (গুগল ও মেটা) প্রমাণের চেষ্টা করেছে। কেইলির কিছু পুরোনো বার্তা দেখানো হয় যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি বাড়িতে নিরাপদ বোধ করেন না। তাঁর মা তাঁকে নিয়মিত চিৎকার-চেঁচামেচি ও তিরস্কার করেন।

বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, কেইলির বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের মূল কারণ তাঁর অগোছালো পরিবার। যার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো সম্পর্ক নেই।

এই মামলাটি গুগল ও মেটার বিরুদ্ধে করা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রায়ালের মধ্যে প্রথম। এর রায়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে, প্রতিষ্ঠানগুলো কি জেনেশুনে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলোকে এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে শিশুরা আসক্ত হয়ে পড়ে। গত সপ্তাহে মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গও এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁর কোম্পানির বিরুদ্ধে আনা শিশুদের সুরক্ষায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই ট্রায়ালটি মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, আসক্তির জন্য মামলা করলেও কেইলি ভবিষ্যতে একজন ‘সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার’ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান বলে আদালতে জানিয়েছেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *