ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমটা টেস্টটা স্বপ্নের মতো গেছে বাংলাদেশের। ব্যাটিং, বোলিং দুই বিভাগেই উজ্জ্বল ছিলেন টাইগাররা ক্রিকেটাররা। স্বাগতিকদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে লিখেছে নতুন ইতিহাস। প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে তাদের মাটিতে। এই ম্যাচে বাংলাদেশের নায়ক হয়ে ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদরা। এবার পেলেন সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কার।
আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) পুরুষ ক্রিকেটারদের র্যাঙ্কিংয়ের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রকাশ করেছে বিশ্বক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সেখানেই বড় লাফ দিয়েছেন এই টাইগাররা ক্রিকেটাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তো ৯ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার সেরা বিশে জায়গা করে নিয়েছেন।
ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৮৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন শান্ত। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে আর ব্যাট করার প্রয়োজনই হয়নি। এই পারফরম্যান্সের সুবাদে ৯ ধাপ এগিয়ে ২০তম স্থানে উঠে এসেছেন শান্ত। ৬৫৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এটি তার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন।
তবে টাইগার ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছেন তামিম। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করে দলকে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তিনি। যদিও দ্বিতীয় ইনিংসে রান পাননি। তবুও প্রথম ইনিংসের সেই সেঞ্চুরির সুবাদে ৮৪ ধাপ এগিয়েছেন তামিম। মাত্র দুই টেস্ট খেলা বাংলাদেশ ওপেনার এখন অবস্থান করছেন ৮৮তম স্থানে।
এছাড়া বাংলাদেশের অন্য ব্যাটারদের মধ্যে প্রথম ইনিংসে ৪৯ ও দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ৩০ রান করে পাঁচ ধাপ এগিয়েছেন মুমিনুল হক। বর্তমানে তিনি আছেন ৩১তম স্থানে। ৩ ধাপ এগিয়ে ৫৮তম স্থানে আছেন সাদমান ইসলাম। ৫ ধাপ এগিয়ে তার পরের স্থানেই আছেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ (৫৯তম স্থানে)।
বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে অবশ্য সবার ওপরে আছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। ২১ বছরের ক্যারিয়ারে এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৩৬ রান করা ৩৯ বছর বয়সি এই ব্যাটার ধরে রেখেছেন ১৮ নম্বর স্থানটি। এর বাইরে পাঁচ ধাপ পিছিয়ে ২৮তম স্থানে নেমে গেছেন লিটন দাস।
বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন হাসান মাহমুদ। ডারউইনে ৯ উইকেট শিকার করে দলের জয়ের নায়ক ২৬ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ৩৮তম স্থানে। ৫০৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তারও এটি ক্যারিয়ার সেরা র্যাঙ্কিং।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করে তিন ধাপ এগিয়েছেন মিরাজ। বর্তমানে তিনি আছেন ২৪তম স্থানে। ম্যাচে একটিমাত্র উইকেট পেলেও নিজের ১১তম স্থান ধরে রেখেছেন অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে তিনিই এখন বাংলাদেশের সেরা বোলার।
এছাড়া ম্যাচে তিন উইকেট শিকার করে তাসকিন আহমেদ এক ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ৪৯তম স্থানে। তবে এই সিরিজে দলে না থাকা তরুণ পেসার নাহিদ রানা এক ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছেন ৬০তম স্থানে।
ব্যাটার ও বোলারদের পাশাপাশি অলরাউন্ডারদের তালিকায় আগের মতোই তিন নম্বর পজিশন ধরে রেখেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে তার রেটিং পয়েন্ট বেড়ে এখন হয়েছে ৩২০। তার সঙ্গে যৌথভাবে তিন নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক অবশ্য এক ধাপ পিছিয়ে চারে নেমে গেছেন।