অমর একুশে বইমেলায় আসছে রকিবুল ইসলাম মুকুলের ‘মনামী’

অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ এ আসছে কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রকিবুল ইসলাম মুকুল এর রোমান্টিক প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস ‘মনামী’। 
ফরাসী ভাষায় ‘মন আমি’ মানে আমার বন্ধু। সেই বন্ধুত্ব এবং নানান সম্পর্কের ভালোবাসা ও টানাপড়েন এই উপন্যাসের উপজীব্য। বাংলাদেশ ও এর গণ্ডি পেরিয়ে আফ্রিকার নাইরোবির ছুটে চলা জীবন, শূণ্যতা, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব এবং জীবনের নানান দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে উপন্যাসের পাতায় পাতায়। 
উপন্যাস মনামী প্রকাশ করেছে দেশের খ্যাতিমান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অনিন্দ্য প্রকাশ। প্রচ্ছদ করেছেন স্বনামধন্য শিল্পী ধ্রুব এষ। বইটি অমর একুশে বইমেলাসহ রকমারি ডটকম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও পাওয়া যাবে। 

অনিন্দ্য প্রকাশের স্বত্ত্বাধিকারী প্রকাশক আফজাল হোসেন বলেন, রকিবুল ইসলাম মুকুল দীর্ঘদিন থেকে লিখছেন। তিনি সামাজিক ও সমকালীন উপন্যাসের পাশাপাশি সায়েন্স ফ্যান্টাসি লিখে পাঠকপ্রিয় হয়েছেন। তার একটি পাঠক শ্রেণী আছে। মনামী উপন্যাসটি রোমান্টিক হলেও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন পরিবেশে লেখা। পাতায় পাতায় পাঠককে নিয়ে যাবে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আফ্রিকান সাফারীর তুমুল রোমান্সভরা দিনগুলিতে। আশা করি পাঠকের মন জয় করবে মনামী। উপন্যাসের প্রচ্ছদে সারসংক্ষেপ- আধো আলোতে জুরির মুখটা দেখলাম। শিশুর মতো ঘুমাচ্ছে। ঘুমন্ত মানুষকে জেগে থাকা মানুষের চেয়ে বেশি সুন্দর লাগে। দিনমান শ্রান্ত ক্লান্ত দেহ যখন স্বস্তির ঘুমের অতলে হারিয়ে যায়, শরীর তখন জেগে ওঠে নতুন এক প্রাঞ্জল রুপে। ক্লান্তিকে ঝেড়ে ফেলে লাবন্য গ্রাস করে ঘুমন্ত মানুষের চোখে মুখে। জুরিকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। যেন আফ্রিকান রাজকন্যা শিকারে এসে তাঁবুতে ঘুমিয়ে পড়েছে, আমি তার রাজকুমার। ঘড়ির দিকে তাকালাম। রেডিয়ামের ঠিকরে পড়া আলোতে দেখে নিলাম রাত সাড়ে ৪টা। নিঃস্তব্ধ প্রকৃতি, হালকা শীতের আমেজ, মৃদুমন্দ বাতাসে তাঁবুর দরোজার পর্দা সরিয়ে সামনে দাঁড়ালাম। জোছনা রাতের ঝলমলে আকাশ। ছড়ানো ছিটানো এত তারা একসঙ্গে হয়তো দেখা হয়নি একজীবনে। চারপাশে তুমুল নিস্তব্ধতা। শিরশির বাতাসে হালকা শীত করছিল। যতো দূরে দেখা যায় সবুজ বনে চাঁদের আলোর প্রতিফলন। হালকা বাতাসে নেচে নেচে গাইছে বৃক্ষলতা। এই গভীর নিস্তব্ধতায় শুধু মনে হলো- আমি কে? কি আমার পরিচয়। কোথা থেকে এখানে এলাম। কোথায় আমার গন্তব্য! ভাবনার শেষ নেই। অন্ত নেই এই আকাশের উদারতার, দূর থেকে গেয়ে ওঠা নিশুতি পাখির, তুমুল আক্রোশ বা আবেগে ডেকে ওঠা বুনো প্রাণীর। এই বিশাল প্রকৃতি, এই এত সব বৃক্ষরাজির বিশালতার মাঝে নিজেকে ক্ষুদ্র, নগণ্য মনে হলো। জুরির সাথে থেকে যাবো? নাকি ফিরে যাবো নিজ ঠিকানায়। রোকেয়া খাতুনের কথা মনে পড়ল। মনামী। জেলখানায় কেমন আছে মেয়েটা? আসলেই কি ও খুনের সাথে জড়িয়ে গেছে? কত প্রশ্ন মনে- উত্তর জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *