অবশেষে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দিলেন ইবাদত

আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা আফগান অধিনায়ক রহমত শাহকে দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুতই ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ১৮ রানের সময় তাকে জীবন দেন তানজিদ হাসান তামিম। সেটিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের আক্ষেপ বাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল আফগানরা। অবশেষে থামালেন ইবাদত হোসেন। তৃতীয় উইকেটের দেখা পেল বাংলাদেশ।

আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিনের তৃতীয় সেশনে এই রিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত ২ উইকেট হারিয়ে ৯০ রান তুলেছে আফগানিস্তান। এখনো পিছিয়ে ৩৮৯ রানে। ৮৩ বলে ২৮ রানে অপরাজিত আছেন সেদিকুল্লাহ অটল আর ৮৬ বলে ৩৫ রানে রহমত শাহ।

প্রথম দুই উইকেট দ্রুতই তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেটের জন্য অপেক্ষা বাড়ছিল। ইনিংসের ১৮তম ওভারে অবশ্য জুটি ভাঙার সুযোগ তৈরি করেছিলেন হাসান মাহমুদ। কিন্তু স্লিপে বল হাতে জমাতে পারেননি তামিম। 

তখন আফগান অধিনায়কের রান ছিল ১৮। এরপর দারুণ ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। সেদিকুল্লাহ অটলকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ৮২ রানের জুটি। যেই জুটি বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ দাঁড়াচ্ছিল। প্রশ্ন ছিল- কে ভাঙবেন এই জুটি। অবশেষে সেই জুটি ভাঙলেন ইবাদত।

ইবাদতের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে গেছেন রহমত। লিটনের গ্লাভসের বল জমা হতেই উদযাপনে মেতে উঠল বাংলাদেশ শিবির। এই উদযাপন দেখেই বোঝা যায় উইকেটটা কতটা গুরুত্বপূর্ন ছিল। ফেরার আগে ১২৪ বল খেলে ৫১ রান করেছেন তিনি।

ওপেনার সেদিকুল্লাহ অটলকে সঙ্গ দিতে এসেছেন হাশমতুল্লাহ শাহিদি।

রহমত-সেদিকুল্লার জুটিতে অপেক্ষা বাড়ছে বাংলাদেশের

চা-বিরতির আগেই আফগানিস্তানের দুই উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপরও সুযোগ তৈরি করেছিলেন বোলাররা। তবে ক্যাচ ফেলে এখন তৃতীয় উইকেটের অপেক্ষা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আর জুটি গড়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ অটল আর অধিনায়ক রহমত শাহ।

চা-বিরতি থেকে ফিরে ইনিংসের ১৮তম ওভারে উইকেট তুলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিলেন হাসান মাহমুদ। এই টাইগার পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মারেন রহমত শাহ। ক‍্যাচ যায় স্লিপে। বলে হাত ছোঁয়ালেও মুঠোয় নিতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম। হয়ে যায় বাউন্ডারি।

সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় তৃতীয় উইকেটের অপেক্ষা বেড়েছে বাংলাদেশের। তৃতীয় উইকেটে পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি গড়েছেন রহমত আর সেদিকুল্লাহ। আফগানিস্তানও শত রানের কাছে পৌছে গিয়েছে।

জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে চা-বিরতিতে বাংলাদেশ

দ্বিতীয় সেশনের শুরুর দিকেই রানের পাহাড় মাথায় নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে আফগানিস্তান। তবে শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়েন স্বাগতিক ব্যাটাররা। পঞ্চাশ পার হতেই তাদের দুই উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার আব্দুল মালিক ফেরার পর ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন শাহিদুল্লাহ কামাল। শুরুটাও ভালোই করেছিলেন তিনি। তবে ইনিংস বড় করতে দেননি হাসান মাহমুদ। সপ্তম ওভারে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান তাকে। ফেরার আগে ১৯ বলে ১৯ রান করেন এই আফগান ব্যাটার।

শুরুর ধাক্কা সামলে এখন প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় আছেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ অটল আর অধিনায়ক রহমত শাহ। তৃতীয় উইকেটে ৫১ বল খেরে ২৩ রানের অপরাজিত জুটি গড়েছেন তারা।

শুরুতেই ইবাদতের ‘স্যালুট’ সেলিব্রেশন

দিনের শুরতেই দারুণ ব্যাটিং করলেন লিটন দাস আর মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরি তুলে নিলেন লিটন। এতে বড় লিড দাঁড় করাল বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেল আফগানরা। মাঠে দেখা মিলল ইবাদত হোসেনের বিখ্যাত ‘স্যালুট’ সেলিব্রেশন।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে আক্রমণে আসেন ইবাদত। আফগান শিবিরে আঘাত হানতে সময় নিলেন না তিনি। প্রথম বলেই ফেরালেন আগের ইনিংসে দারুণ করা ওপেনার আব্দুল মালিককে। ৫ বলে ২ রান করে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

সেঞ্চুরি করে ফিরলেন লিটন, বাংলাদেশের ইনিংস ঘোষণা

দিনের শুরুতেই দু’বার জীবন পেয়েছিলেন লিটন দাস। সেটির সঠিক ব্যবহারটাই করলেন তিনি। আফগানদের পোড়ালেন ক্যাচ ফেলে দেওয়ার আফসোসে। আর লিটন স্পর্শ করলেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার।তবে এরপর আর বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। লিটন আউট হওয়ার পর বাংলাদেশও ইনিংস ঘোষণা করেছে।

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫.২ ওভার ব্যাট করে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। এর আগে ১০৬ রানের লিডি নিয়ে দ্বিতীয় শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ফলে সবমিলিয়ে টাইগারদের লিড দাঁড়িয়েছে ৪৭৮ রান।

মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল বিকেলে যে লড়াই শুরু করেছিলেন লিটন দাস, সেটি চলল আজকের দুপুরের পর পর্যন্ত। চতুর্থ দিনের সকালটা কোনো উইকেট না হারিয়েই কাটিয়ে দেন তারা। ২৬ ওভার ব্যাট করে তোলেন ১১৪ রান।

প্রথমে সেশনে দারুণ ব্যাটিং করে সেঞ্চুরির অপেক্ষা জাগিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গিয়েছিলেন লিটন। বিরতি থেকে ফিরে সেটাকে পূর্ণতাও দিলেন তিনি। দারুণ ব্যাটিংয়ে টানা দুটি চার মেরে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন লিটন। টেস্ট ক্যারিয়ারের এটি তার সপ্তম সেঞ্চুরি।

সেঞ্চুরি করার পর অবশ্য আর বেশি দূর যেতে পারেননি লিটন। দ্রুত কিছু রান তোলার পরিকল্পনা থেকে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এতে ভাঙে সপ্তম উইকেটে মিরাজের সঙ্গে তার সপ্তম ৪৯ রানের জুটি। যেটি বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসিয়েছে।

মোহাম্মদ সালিমের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১১৭ বল থেকে ১৪ চারের সাহায্যে ১০২ রান করেন লিটন। তিনি ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।

এর আগে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজও। লিটনকে সঙ্গ দিতে নেমে দারুণ ব্যাটিং করেছেন তিনিও। টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করে আফগান বোলারদের কোনো সুযোগ দেননি তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ৯৭ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

এর আগে ৭২ ওভার ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৩ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *