অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি হচ্ছে বগুড়ায়, আন্তর্জাতিক রূপ পাবে বিমানবন্দর

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও অ্যাভিয়েশন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, আধুনিক বিমানঘাঁটি, পাইলট ট্রেনিং সেন্টার ও কার্গো ফ্যাসিলিটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল আজ বৃহস্পতিবার (০৭ মে) সকালে ঢাকা থেকে বিমানবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার বিমানবন্দরে আসেন।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন—বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের পাশাপাশি ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারে। একইসঙ্গে কার্গো ফ্যাসিলিটি স্থাপন করা হবে, যা উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, বিমানঘাঁটির প্রাথমিক অনুমোদন ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলে একটি অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। এটি আমার প্রতিজ্ঞা।

তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চলের জন্য বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটির অনুমোদন ইতোমধ্যে হয়েছে এবং সেখানে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল সুবিধা গড়ে তোলা হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এখানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পাইলট প্রশিক্ষণের সুযোগ রেখে আন্তর্জাতিক মানের ফ্লাইং অ্যাকাডেমি ও ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে।

মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা বগুড়া পরিদর্শনে এসেছি। উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম অ্যাভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা হবে। বগুড়াবাসী সত্যিই ভাগ্যবান। মন্ত্রণালয়ের এই বৃহৎ পরিকল্পনার যাত্রা বগুড়া দিয়েই শুরু হচ্ছে।

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ২০ এপ্রিল আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কার্গো সুবিধা, প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে বগুড়াসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়ন, পর্যটন, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং অ্যাভিয়েশন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একইসঙ্গে এটি দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *