ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের সংকটে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। 

রোববার (১৩ মে) বিকেলে সর্বশেষ পরিশোধন কার্যক্রম চালানো হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তারা জানান, আগামী ১০ মে’র আগে রিফাইনারি চালুর কোনো সম্ভাবনা নেই। ওই সময়ের মধ্যে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের নতুন চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বন্ধকালীন সময়ে রিফাইনারিতে রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) কার্যক্রম চলবে। 

এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ক্রুড প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ। ক্রুড নাই। এলপি গ্যাস, পেট্রোল, বিটুমিন উৎপাদন চলমান আছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসছে যে, ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম বন্ধ, এটি সত্য নয়।’

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শরীফ হাসনাতকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করলেও কোনো মন্তব্য করেননি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। দেশে সর্বশেষ অপরিশোধিত তেলের চালান আসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। আগামী মে মাসের শুরুতে নতুন চালান আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সরাসরি আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়বে না।

ইআরএলের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন এবং চারটি ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেড স্টক ব্যবহার করে কয়েকদিন পরিশোধন কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল। মূল মজুত ৬ এপ্রিল শেষ হয়ে যাওয়ার পর এসব বিকল্প উৎসের তেল দিয়েই উৎপাদন চলছিল।

তথ্যমতে, ইআরএল সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে। তবে সংকটের কারণে গত মাস থেকে তা কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। পাঁচটি ট্যাংকের তলানিতে থাকা প্রায় ৩৩ হাজার টন ডেড স্টক এবং এসপিএম থেকে আনা ৫ হাজার টন তেল দিয়ে এতদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এসব মজুতও শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্রুড প্রসেসিং কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, যা ইআরএলে পরিশোধন করা হয়। ইআরএল এলপিজি, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেসসহ মোট ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করে। বাকি চাহিদা মেটাতে ভারত ও চীন থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়।

এসএন/পিডিকে 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *