গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এনটিভি ও এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন :
শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর
চাঁদপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। আজ বাদ আসর শহরের বাইতুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাইতুল আমিন চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চাঁদপুর জেলা আমির মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজী। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণ একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ ও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের পক্ষে রায় দিলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। তারা বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার করে জনগণের রায় উপেক্ষা করা হলে দেশ সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হতে পারে।
নেতৃবৃন্দ গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ারও তাগিদ দেন।
এম মুনির চৌধুরী, নড়াইল
নড়াইল শহরে ব্যানার-ফেস্টুনসহ একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ১১ দলীয় ঐক্যর নেতারা। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন নড়াইল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার জাকির হোসেন বিশ্বাস এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সার।
সমাবেশে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সার তার বক্তব্যে বলেন, পূর্বে যারা সংবিধান, সংবিধান, সংবিধান বলে এ দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, আবার নতুন করে দেখছি সংবিধানের দোহাই দিয়ে এ দেশের ৭০ শতাংশ জনগণের যে রায়, সে রায়কে কার্যকরী করার পরিবর্তে নতুন করে যে ফ্যাসিবাদের জন্ম দেওয়ার জন্য পাঁয়তারা করছে। আমরা তীব্র ভাষায় এর প্রতিবাদ করতে চাই।
সাবিনা ইয়াসমিন শ্যামলী, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। আজ বিকেল ৪টার দিকে শহরের চৌরহাস মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক ধরে মজমপুর গেট অতিক্রম করে পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
শহর জামায়াতের আমির মো. এনামুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন, কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির সিরাজুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি আব্দুল লতিফ খান, এনসিপি কুষ্টিয়া জেলার প্রধান সমন্নয়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি, এবি পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক বেলাল মাহমুদ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়ার্দারসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জেও সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য।
রোববার বিকেলে শহরের দরগাহ্ রোডে জেলা জামায়াতের কার্যালের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ৫টায় কর্মসূচি শুরুর আগে থেকেই জেলা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার ও ফেস্টুনসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে জেলা জামায়াত নেতারাসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিএনপি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ জনস্বার্থবিরোধী। তারা নির্বাচনের আগে দেশবাসীকে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। গণভোটে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিলেও সেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি টালবাহানা শুরু করেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করা বৈধ আর জনগণের ভোটে সংস্কার হবে সেটাকে বলে অবৈধ, এমন দ্বিচারিতা বাংলাদেশের মানুষ সহ্য করবে না। গণভোটকে অবজ্ঞা করে জাতিকে অপমান করেছে বিএনপি। সরকার জনস্বার্থের বাইরে গেলে রাজপথ এবং সংসদ সব জায়গাতেই প্রতিবাদ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।
সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর
ফরিদপুরেও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। রোববার বিকেলে শহরের প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অধ্যাপক আবদুত তাওয়াব অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি সরকার দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তিনি দাবি করেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি জনসভায় ফরিদপুরে এসে গণভোটের পক্ষে সমর্থন চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা টালবাহানা করছেন, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার শামিল।
মো. আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা (সদর ও আলমডাঙ্গা)
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। রোববার বিকেল ৪টায় শহরের টাউন মাঠ থেকে শুরু হয়ে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল কবোরী রোড, সরকারি কলেজ রোড, কোর্ট রোড, ভিজে স্কুল রোড, শহীদ হাসান চত্বর ও নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে আবার টাউন মাঠে এসে শেষ হয়। এতে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে শহরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল আংশিকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে।
মিছিল শুরুর আগে টাউন মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে ৫২ শতাংশ ম্যান্ডেট পাওয়া কোনো দল যদি উপেক্ষা করে, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। প্রয়োজনে আবারও জুলাইয়ের মতো আন্দোলন গড়ে উঠবে এবং জনগণ সংসদ ভবন ঘেরাও করতে বাধ্য হবে।