ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটকে উদ্ধার, যেভাবে চলল অভিযান

ইরানের ভেতরে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫-এর নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে এক জটিল ও দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই সফল উদ্ধার অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

মূলত গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ ইরানের আকাশে একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল ভূপাতিত হওয়ার পর থেকে এই কর্মকর্তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছিল। 

রোববার (৫ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ‘গভীর পর্বতমালা’ থেকে দ্বিতীয় ওই বিমানসেনাকে উদ্ধার করেছে, যিনি গুরুতর আহত ছিলেন। উদ্ধারকৃত কর্মকর্তা একজন অত্যন্ত সম্মানিত ‘কর্নেল’ বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ট্রাম্প বলেন, এই উদ্ধার অভিযানটি ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও বিপজ্জনক। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে ইরানের আকাশে এই মিশন পরিচালিত হয়। তিনি আরও জানান, দুই দিন ধরে ওই কর্মকর্তা ইরানি বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে পাহাড়ে আত্মগোপন করেছিলেন। তাকে উদ্ধারের জন্য ডজনখানেক ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ বহনকারী বিমান পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প নিজেই।

উদ্ধার অভিযান চলাকালে ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে তীব্র গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই গোলাগুলির কথা স্বীকার করেনি, তবে আল জাজিরার সূত্রমতে ওই এলাকায় এক হামলায় ৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মার্কিন উদ্ধার অভিযান চলাকালীন দুটি সি-১৩০ পরিবহণ বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে। 

অন্যদিকে, ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানের সময় মাটিতে থাকা সি-১৩০ বিমানগুলো যাতে শত্রুর হাতে না পড়ে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সেগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে কোনো সেনা সদস্য বন্দি না হলেও অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত ও ৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পক্ষের ভুল গুলিতে (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হারিয়েছে। এছাড়া গত মাসে ইরাকের আকাশে একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রু নিহত হন।

এফ-১৫ বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ইরানও ওই মার্কিন সেনাকে খুঁজে বের করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। তেহরান থেকে স্থানীয় জনগণকে ওই সেনাকে কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল, যাতে তাকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে মার্কিন বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে ইরানের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ১টায় হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক উদ্ধার অভিযান নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য দেবেন বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *