২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি সিডিএম হাসপাতালে মারা গেছে তিনজন এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দুজন। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ, একজনের কুষ্টিয়া এবং একজনের নাটোরে।
জানা যায়, সিডিএম হাসপাতালে বর্তমানে পাঁচ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাব্বি খসরু বাপ্পী জানান, গতকাল শনিবার দুপুর ১২টা থেকে আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টার মধ্যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া পাঁচ শিশু এনআইসিইউতে ভর্তি রয়েছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. শঙ্কর কে বিশ্বাস জানান, শনিবার সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত হাসপাতালে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম সাসপেক্টেড হয়ে নতুন ভর্তি হয় ২৪ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৬ জন। বর্তমানে রামেক হাসপাতালে হাম সাসপেক্টেড শিশু ভর্তি সংখ্যা ১২৫।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র বলেন, পূর্বের তুলনায় রামেক হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেড়ে গেছে। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে পুরো একটি শিশু ওয়ার্ডকে হাম আইসোলেশন ইউনিটে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সচিবের নির্দেশনায় রাজশাহীর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে আইসিইউতে থাকা হাম আক্রান্ত শিশুদের স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র আরও জানান, আইসিইউতে ১২ বেডের জায়গায় আরও ছয়টি বেড যুক্ত করা হয়েছে। এখন শিশু আইসিইউর মোট বেড সংখ্যা ১৮, যার মধ্যে ১২টি হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য এবং বাকি ছয়টি অন্যান্য শিশু রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আইসিইউর চাপ কমাতে সাময়িকভাবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে ১০টি বেড ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।